আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফের কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়াল শিখ-দাঙ্গা। রাহুল গান্ধীর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দিল্লির ১৯৮৪ সালের ওই দাঙ্গার বিষয়টি আলোচনায় আসার পর থেকে কংগ্রেস-বিজেপি দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে শিখ-দাঙ্গার পুনর্তদন্তের দাবি জানালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
বুধবার এই দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে রাজধানীতে শিখ বিরোধী দাঙ্গার বিশেষ তদন্তকারী দলকে দিয়ে তদন্ত করানো নিয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর দিল্লিতে তিন দিন ধরে দাঙ্গায় প্রায় তিন হাজার শিখ নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার রাতে নিজের ১০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ওই দাঙ্গাকে গুজরাত দাঙ্গার থেকে আলাদা করেছিলেন ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সাক্ষাতকারে নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তাঁর শেষ সংবাদ সম্মেলনে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার সঙ্গে তিনি একমত কি না, রাহুলকে এমন প্রশ্ন করা হয়। দু’বার এড়িয়ে যাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘১৯৮৪ সালে দিল্লি ও ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় নিরীহ, নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। দুটোই ভয়াবহ ব্যাপার। পার্থক্য হলো, ’৮৪ সালে সরকার দাঙ্গা থামানোর সব রকম চেষ্টা করেছিল, গুজরাটে হয়েছিল ঠিক উল্টোটা। গুজরাট সরকার দাঙ্গাকে আরও উসকে দিতে প্ররোচনা
রাহুলের এমন বক্তব্যকে ‘সত্যের বিকৃত উপস্থাপনা’ বলে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, লোকসভার আগামী নির্বাচন ধর্মনিরপেক্ষ বনাম সাম্প্রদায়িকতার লড়াই হতে যাচ্ছে বলে যাঁরা মনে করছেন, এই সাক্ষাৎকার ও বিতর্ক সেই ধারণাকে আরও দৃঢ় করবে।
লোকসভা নির্বাচনের আগে গুজরাট দাঙ্গা ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে এই মন্তব্য কংগ্রেস-বিজেপি দ্বৈরথকে ক্ষুরধার করে তুলেছে। বিজেপি নেতাদের কড়া সমালোচনা মুখে পড়েন রাহুল।