সিসি ডেস্ক: হাজিদের সঙ্গে প্রতারণা ও মানবপাচারে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিন হজ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এ ছাড়াও ১৯৩টি এজেন্সিকে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির মালিকদের শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আগামী ৪, ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে উপস্থিত হয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত বছর হাজিদের সঙ্গে প্রতারণা ও মানব পাচারের অভিযোগে ১৯৬টি এজেন্সিকে চিহ্নিত করেছে সৌদি সরকার। এরমধ্যে সৌদি-বাংলা হজ এজেন্সি, রফিক ট্রাভেলস এজেন্সি এবং সন্দ্বীপ টুরস এন্ড ট্রাভেলস নামের তিন এজেন্সির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। অবশিষ্ট ১৯৩টি এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণা, সৌদি আইন অমান্য ও হয়রানিসহ নানা অভিযোগ তদন্তে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও হজ অফিসার বজলুল হক বিশ্বাসকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বজলুল হক বিশ্বাস বলেন, হাজিদের সঙ্গে প্রতারণা ও মানবপাচারের অভিযোগে ১৯৩টি এজেন্সি অভিযুক্ত। তাদের মালিকদের শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কমিটির সদস্য সচিব ও মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৯৬টি এজেন্সির মধ্যে তিনটিকে বিচারের মুখোমুখি করে তাদের শাস্তিও দেয়া হয়েছে। শাস্তি হিসেবে তিন এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছর সাতটি এজেন্সির অবহেলা এবং প্রতারণার কারণে ১৬২ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যেতে পারেননি। এদের মধ্যে ১৪৩ জন যাত্রী সৌদি-বাংলা হজ এয়ার সার্ভিসেস থেকে এবং ১৫ জন রফিক ট্রাভেলস থেকে হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিলেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযুক্ত এই সাত এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিতও হয়েছে। সাতটি এজেন্সির মধ্যে দুটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এজেন্সি দুটির ৬০ লাখ টাকা করে জামানতের অর্থও ক্রোক করা হয়েছে। এছাড়া, সৌদি হজ এয়ার সার্ভিসেসকে ৫০ লাখ টাকা এবং রফিক ট্রাভেলসকে ১৫ লাখ টাকার জরিমানাও করেছে মন্ত্রণালয়।
গত বছর হজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মোট ৮৭ হাজার ৮৫৪ জন। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই যাত্রীদের মধ্যে ১৭৬ জন দেশে ফিরে যাননি। এ ছাড়াও হাজিদের সঙ্গে প্রতারণা এবং মানবপাচার ছাড়াও অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত বাসস্থান, পরিবহনব্যবস্থা এবং উন্নতমানের খাদ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনোটাই পূরণ করেনি তারা।
বাংলাদেশ হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশনের (হ্যাব) যুগ্ম মহাসচিব ফরিদ আহমেদ বলেন, অন্যান্য বছরের চাইতে গত বছর প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত হজ এজেন্সির সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু এই সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আমরা অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
তিনি আরো জানান, গত বছর মোট ৬২৮টি হজ এজেন্সির মধ্যে অভিযোগ রয়েছে ১৯৬টি এজেন্সির বিরুদ্ধে। আর এর আগের বছর মাত্র ৩৫৫টি হজ এজেন্সির মধ্যে অভিযুক্ত ছিল ২৮৯টি।