নিউজ ডেস্ক: দু’দফা হানা দিয়ে কয়েক কোটি মানুষের প্রাণ নিয়ে গিয়েছিল ‘ব্ল্যাক ডেথ’ প্লেগ। তৃতীয়বারের মতো পৃথিবীতে হানা দিতে পারে এই মহামারী। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ আশঙ্কা পুরোমাত্রায় বহাল রয়েছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে দু’বার মহামারী রূপে দেখা দিয়েছিল প্লেগ। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্লেগের যে জীবাণু থেকে মহামারী ছড়িয়েছিল, তার থেকে প্রজাতিগতভাবে একেবারেই আলাদা ১৪ শতাব্দীর প্লেগের জীবাণু। ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্লেগে মৃত দুই ব্যক্তির দেহ নিয়ে গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। মৃতদেহ দু’টির দাঁত থেকে উদ্ধার করা গেছে প্লেগের জীবাণু ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস-এর নমুনা। দেখা গেছে, ষষ্ঠ শতাব্দীতে তো বটেই, এর ৮০০ বছর পর ওই জীবাণুর প্রকোপে অর্ধেক ইউরোপ জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল৷
কিন্ত্ত দু’ধরনের জীবাণুর জিনের গঠনে সূক্ষ্মতর বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, উৎপত্তিগত ভাবে এদের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। ১৪ শতাব্দীতে ইয়েসিনিয়া পেস্টিস-এর যে প্রজাতি ইউরোপে হানা দিয়েছিল, তার উদ্ভবে ৮০০ বছর আগেকার প্লেগের জীবাণুর তেমন কোনও প্রভাবই নেই। ষষ্ঠ শতাব্দীতে যে প্লেগ মহামারী সৃষ্টি করেছিল তার জীবাণু কিছু দিন পর প্রাকৃতিকভাবেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
আর এটাই জীবাণুবিজ্ঞানীদের আশঙ্কার কারণ। তাঁদের মতে, যে ভাবে একেবারে স্বাধীন উপায়ে প্লেগের নতুন জীবাণুর জন্ম হয়েছিল, সেই পদ্ধতিতেই আবারও সে ভাবেই নতুন চেহারা নিয়ে ফিরতে পারে ‘ব্ল্যাক ডেথ’।