স্বাস্থ্য কথা ডেস্ক: সারা দেশে চলছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি। ২৫ জানুয়ারি এই কর্মসূচি শুরু হয়। টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও অনেকে এই হাম-রুবেলা সম্পর্কে জানেন না। জানেন না এগুলো সম্পর্কে এবং এই টিকার কাজ কী। হাম হচ্ছে ইংরেজি মিজলস শব্দের বাংলা অর্থ। তবে রুবেলার কোনো বাংলা অর্থ নেই। এটি একটি ইংরেজি শব্দ। হাম এবং রুবেলা দুইটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগ সাধারণত একজন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যদের মধ্যে হাঁচি, কাশির মাধ্যমে অতি দ্রুত ছড়ায়।
রোগ দুটি সম্পর্কে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. সরফরাজ খান চৌধুরী বলেন, ‘হাম একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এই রোগ সাধারণত একজন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যদের মধ্যে হাঁচি, কাশির মাধ্যমে অতি দ্রুত ছড়ায়। শিশু ছাড়াও যে কোনো বয়সে হাম হতে পারে। তবে শিশুদের মাঝেই এই রোগের প্রকোপ বেশি। সেইসাথে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের জটিলতা এবং মৃত্যু বেশি পরিমাণে দেখা যায়। শিশুদের মধ্যে যেসব জটিলতাগুলো দেখা দেয় তার মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনকেফেলাইটিস, অন্ধত্ব, বধিরতা ইত্যাদি। হাম রোগ এবং এর জটিলতার হাত থেকে বাঁচার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে সঠিক সময়ে শিশুকে হামের টিকা দিয়ে সুরক্ষিত করা।’
রুবেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটিও ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। হামের মতোই এটি হাঁচি, কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। গর্ভবতী মায়েরা গর্ভের প্রথম তিন মাসের সময় রুবেলা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে মা থেকে গর্ভের শিশু আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে গর্ভপাত এমনকি গর্ভের শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। এই রোগের কারণে শিশুর জন্মগত ত্রুটি হতে পারে যা কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম (সিআরএস) নামে পরিচিত। রুবেলা রোগ এবং রোগের হাত থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে সঠিক সময়ে শিশুকে রুবেলার টিকা দিয়ে সুরক্ষিত করা। এই রোগের প্রকোপ থেকে সুরক্ষার জন্য সরকার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির(ইপিআই) মাধ্যমে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১ ডোজ এমআর টিকা সংযুক্ত করেছে। একই সাথে ১৫ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে টিটি টিকার যে কোনো ডোজের ১ ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হচ্ছে।’
সরকার ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে ১ ডোজ এমআর টিকা প্রদানের মাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির পর নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে হাম, রুবেলা এবং পোলিও টিকাদানের উচ্চহার অর্জন এবং তা বজায় রাখার জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হবে। কর্মসূচির নির্দিষ্ট দিনে কোনো শিশু এমআর বা পোলিও টিকা খাওয়া থেকে বাদ পড়লে কর্মসূচি চলাকালীন সময় অন্য যে কোনো নিয়মিত স্থায়ী বা অস্থায়ী কেন্দ্র থেকে প্রাপ্য টিকা নিতে পারবে।
সূত্র: সুপ্রভাত বাংলাদেশ