সারোয়ার আলম সুমন, বদরগঞ্জ: রংপুরের বদরগঞ্জ প্রতারক চক্রের প্রতারণার ফাঁদে দুই গৃহবধূ ও বিকাশ ম্যানেজার। গত রবিবার রাতে চক্রটি তাদেরকে ফাঁদে ফেলে ‘বিকাশ’ একাউন্টের মাধ্যমে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিনব কায়দায় টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ঘটে পৌরশহরের স্টেশন রোডের আলম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বিকাশ কেন্দ্রে।
জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের উত্তর বাওচন্ডি সাহাপাড়ার গৃহবধু চারু বালার পুত্র বধু তৃপ্তি রানীর মোবাইলে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে গত দুই দিন আগে ফোন আসে। এক সময় তাদের সঙ্গে আতœীয়তার সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতারক চক্রটি। সর্ম্পকের জের ধরে বউ শাশুড়িকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। ঘটনার দিন গত রবিবার বিকেলে প্রতারক চক্রটি বউ শাশুড়িকে বলে তাদের মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠানো হবে। কথাটা কাউকে বলা যাবে না। এতে টাকা খোয়া যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এ কথা বলে তাদেরকে একটি বিকাশ কেন্দ্রে যেতে বলা হয়। ওই টাকার মধ্যে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা তাদের(প্রতারক চক্রের) মোবাইলে পাঠানোর কথা বলে। বাকি টাকা বউ শাশুড়িকে নিতে বলা হয়। এ প্রলোভনে পড়ে বউ শাশুড়ী বাড়ি থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুরে পৌরশহরের আলম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বিকাশ কেন্দ্রে আসে। দফায় দফায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে প্রতারক চক্রটি। তাদের কথা মতো কোন কিছু না বুঝে চারু বালা ও তৃপ্তি রানী প্রথমে ওই বিকাশ কেন্দ্রে যায়। সেখানে গিয়ে বলে তাদের ভাইয়ের কাছে টাকা বিকাশ করবে। গ্রাহকের সঙ্গে ভদ্রতার কারণে সহজ সরল বিকাশ ম্যানেজার এরশাদ আলী প্রথমে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ওই প্রতারক চক্রের কাছে বিকাশ করেন। এ সময় বিকাশ কেন্দ্রের ম্যানেজার তাদেরকে টাকা দিতে বলেন। টাকা দিচ্ছি বলে আরো ১৫ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলেন গৃহবধূ চারুবালা ও তার পুত্রবধূ তৃপ্তি রানী। তাদের কথা বিশ্বাস করে এরশাদ আলী দুই দফায় ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা বিকাশ করে। এরপর বউ শাশুড়ি তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন থেকে ওই টাকা কেটে নিয়ে বাকি টাকা ফেরত দিতে বলেন। এতে দেখা যায় তাদের মোবাইলে একটি বিশেষ সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুয়া ক্ষুদে বার্তা (ম্যাসেজ) পাঠানো হয়েছে। এটা দেখে বিকাশ কেন্দ্রের ম্যানেজার বুঝতে পারেন সে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এসময় আশপাশের লোকজন নিয়ে বউ শাশুড়িকে আটক করা হয়। পরে অনেক রাত পর্যন্ত দেনদরবার করে বউ শাশুড়ির আত্মীয় স্বজন টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা কে কোথায় থেকে নিল তার হদিস পাওয়া যায়নি। প্রতারণার এ অভিনব কায়দার কথা শুনে অনেকেই হতভম্ব হয়েছেন।