অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: যৌথভাবে স্বতন্ত্র মোবাইল ব্যাংকিং নীতিমালা তৈরি করছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আপত্তির কারণে এবার এই প্রতিষ্ঠানটিকেও সঙ্গে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নীতিমালা চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে ইতিমধ্যে একটি বৈঠকও করেছে বিটিআরসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালায় মোইল ব্যাংকিংয়ে কমিশনের হার এবং এ সংক্রান্ত নানা শর্ত যেমন উল্লেখ থাকবে তেমনি নিবন্ধিত সিম থেকে যেন লেনদেন নিরাপদ হয় সে জন্য বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বেসরকারি একটি ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার প্রেক্ষিতে বিটিআরসি মোবাইল ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সে লক্ষ্যে ডিসেম্বরের শেষ দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি। নির্দেশনায় বিটিআরসি সর্বোচ্চ দুই শতাংশ কমিশনের বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। (বর্তমানে বাজারে এক দশমিক আট শতাংশ কমিশনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো।) তবে ব্যাংকিং নীতিমালা গ্রহণের একক ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের হলেও তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সে সময় এমন নির্দেশনা জারি করায় বিটিআরসি আপত্তি জানিয়েছিলো। ফলে এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বিটিআরসি।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী এক দিনে একজন ২৫ হাজার টাকার বেশি মোবাইল ফোনে লেনদেনের সুযোগ থাকলেও বিটিআরসির বাতিল হওয়া নির্দেশনায় লাখ টাকার ওপরেও লেনদেনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
ওই র্নিদেশনায় বলা ছিল, মোবাইল ফোন অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ আউট, ব্যক্তি টু ব্যক্তি (পি২পি) লেনদন এবং যেকোনো ধরনের বিল দেয়া হলে কেবল চার্জ আরোপ করা যাবে। সূত্র অনুযায়ী, এ বিষয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ডিসেম্বরের শেষে দেশে এক কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ খাতে এক বছরে প্রবৃদ্ধি ২৬২ শতাংশ। আর লেনদেন বৃদ্ধির প্রবৃদ্ধি ১৮১ শতাংশ। এক বছর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাত্র সাড়ে ৫৯ হাজার এজেন্ট থাকলেও ২০১৩ সালের শেষে তা এক লাখ ৮৮ হাজারে পৌঁছেছে।