বেলাল হোসাইন, চিলাহাটি (নীলফামারী): কখনও ডিবি পুলিশ কখনও পুলিশের ওসি। আবার কখনও ব্যবসায়ী। আসলে তিনি কে ? প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। বাসা ভাড়ায় থাকেন। চলাফেরা সন্দেহজনক হওয়ায় এলাকাবাসীর চোখে পড়েছেন তিনি। এলাকাবাসী কেউ কেউ বলছে হয় তিনি পুলিশের কোন স্পাই অথবা কোন চোরাচালান কারবারী হবেন। এলাকাবাসী জানায়, রুমা নামের একটি মহিলা তার পরিচয় দিচ্ছেন কখনও ডিবি পুলিশ হিসেবে। আবার কখনও পরিচয় দিচ্ছেন ব্যবসায়ী হিসেবে। এই রহস্যময়ী নারীটি আসলে কে তা এলাকাবাসী জানতে চায়। সুত্রে জানা যায়, চিলাহাটির বোতলগঞ্জে সেনাবাহিনীর সদস্য সজল-এর বাসা ভাড়ায় থাকেন রুমা বেগম। তিনিই কখনও তার পরিচয় লোকজনের কাছে দিয়ে থাকেন পুলিশের গোয়েন্দা। আবার কখনও ব্যবসায়ী হিসেবে। রুমা বেগমের (৩৮) সাথে কথাকালে তিনি বলেন, হ্যাঁ আমি পুলিশের গোয়েন্দা অথবা স্পাই হিসেবে পরিচয় দেই নিজেকে বাঁচাতে। আমার স্বামী এখানে থাকেন না। আর এলাকার কিছু কুচক্রি মানুষের কুনজর পড়ায় তাদের কাছ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমি এই কথা বলে থাকি। তাছাড়া আমার প্রথম পক্ষের স্বামী ছিলেন সেনা সদস্য। তাই এসব পরিচয় দিতে তো অসুবিধা নেই। আপনার প্রাক্তন স্বামী সেনা সদস্য থাকতে পারেন, তাই বলে তো আপনি নিজেই সেনা সদস্য বা পুলিশ সদস্য বনে যেতে পারেন না; প্রশ্নকালে তিনি বলেন, আমি তো বলছি আমাকে বাঁচাতে এসব করছি। আপনার অরিজিন্যাল বাসা কোথায় প্রশ্নকালে তিনি বলেন, দেবীগঞ্জের বগদুরঝুলায়।আমার বাবার নাম আব্বাছ আলী। আপনি এখানে একা আছেন, কি করছেন ? উত্তরে রুমা বলেন, আমার গার্মেন্টস ব্যবসা আর কয়েকটি হাইওয়ে গাড়ীর কাউন্টার নেয়া আছে বিভিন্ন জায়গায়। তাছাড়া আমার প্রাক্তন স্বামী প্রয়াত সেনা সদস্য বিদেশে গিয়ে মারা যাওয়ায় আমি তার পেনশন ভাতা পেয়ে থাকি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোতালগঞ্জ এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, রুমা বেগম এভাবে পুলিশের ডিবি বা সোর্স পরিচয় দিয়ে অনেক মানুষের কাছে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি আবার বলেন, এই এলাকার যত বাচ্চা হারিয়েছে বা হারাচ্ছে তার দিকেই সন্দেহের মূখ তুলছে। একটি সুত্র জানায়, রুমা বেগম মোবাইলের মাধ্যমে লোকের সাথে ভাব জমিয়ে ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছাড়াও অনেক মানুষের সর্বনাশ করেছে। তাছাড়া সে দেহ ব্যবসাও করে থাকে।
এলাকাবাসী বলছে, এভাবে এই নারী নানা পরিচয় দিয়ে আসছে বলে আমরা ভীত-সন্ত্রস্থ। তাছাড়া এই এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরে কয়েকটি শিশুও হারিয়ে গেছে। শিশুদেরকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আসলে নানা পরিচয় দানকারী এই রহস্যজনক নারী কে? কোন পাচারকারী নয়তো? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।