ঢাকা: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাতীয় ঐক্য গড়তে পারলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু অর্থনীতির ক্ষেত্রে ঐক্যমত হলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে রানী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নতুন পণ্য গোল্ডমার্ক কুকিজ ও রিংগো রিয়েল পটেটো চিপসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মুনসুর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানের ব্যস্থাপনা পরিচালক মো: বশিরসহ কর্মকর্তা ও পরিবেশকরা।
বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সূচক অনেক ভালো। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যেটা সব থেকে বেশি দরকার তা হলো জাতীয় ঐক্য। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এটাই আমাদের নাই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হলো দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা। সেই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের প্রধান কাজটি হলো চাহিদামত গ্যাস সরবরাহ করা। দেশে যে পরিমাণ গ্যাসের মজুদ রয়েছে তাতে করে ঠিকমত গ্যাস ব্যবহার করলে সঙ্কট হওয়ার কথা নয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যখন আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম সেদিন কিছুই ছিল না। বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করেছিলেন। যখন সব স্বাভাবিক হলো সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তখন দেশের অগ্রযাত্রা থমকে গিয়েছিল। সব ক্ষেত্রে আজকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ৭২-৭৩ সালে আমাদের রপ্তানি ছিল ২০০ মিলিয়ন ডলার। আজকে সেটা ৩০.৫ বিলিয়ন ডলার। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলার হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
মন্ত্রী দেশের উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে বলেন, লাগাতার হরতাল ও অবরোধ থাকার পরেও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪.২ বিলিয়ন ডলার যা ১৪.৬৮ বিলিয়ন ডালার হয়েছে। আমাদের দেশের রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা অনেক দক্ষ। আগামী দিনগুলো যে সব দেশ অর্থনীতিতে অগ্রগতি লাভ করবে বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।
তিনি বলেন, ভারত অ্যালকোহল ও তামাক পণ্য ছাড়া সব ধরণের পণ্যে কোটা মুক্তি সুবিধা দেবে। এই সুযোগটা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে চায়। এজন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।