ঢাকা: ‘আমাদের চারপাশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ভণ্ড প্রেমিকের সংখ্যা। কেউ গণ্ডা গণ্ডা প্রেম করছেন কেউ আবার একটিও করতে পারছেন না। এটা হতে দেয়া যায় না। তাই এর বিরোধীতায় আমরা সংঘবদ্ধ হয়েছি।’ এসব কথা বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমবঞ্চিত এক শিক্ষার্থী। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে শুক্রবার দুপুরে তার মতো প্রায় আড়াইশ’ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
সমাবেশ থেকে ভণ্ড প্রেমিকদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ভালোবাসা আজ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। খাঁটি প্রেমিকরা আজ বঞ্চিত হচ্ছেন। আর অর্থের লোভে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে প্রেম। পুঁজিবাদের কালো ছায়া থেকে ভালোবাসাকে মুক্ত করতেই হবে। বিশ্বভালোবাসা দিবসে (ভ্যালেনটাইন ডে) যখন হাজারো তরুণ-তরুণী নানা রঙে সেজে প্রিয়জনদের নিয়ে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে, প্রেমিক-প্রেমিকার ঢল নেমেছে পার্কে, বাইমেলায় আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, ঠিক তখনই দেখা গেছে এই উল্টো চিত্র।
শুক্রবার দুপুরে টিএসসিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা গেছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ঢল। প্রেমিকরা নানা রঙের শাড়ি আর প্রেমিকরা রঙিন পাঞ্জাবী পরে এসেছেন ক্যাম্পাসে। তারা জুটি বেঁধে বসে ব্যস্ত অনুভূতি বিনিমেয়ে। ফাগুনের হাওয়ায় পুরো ক্যাম্পাসের চিত্রই গেছে পাল্টে। বসন্তের ঠিক এমনি মধুর দিনে হঠাৎ করেই একদল ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীকে দেখে অবাক হয় ক্যাম্পাসের জুটিরা। তখন বিকেল ৩টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে বের হয়ে আসে আড়াইশর বেশি শিক্ষার্থী। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত বঞ্চিত প্রেমিক সংঘ’ ব্যানার নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকে।
মিছিলে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা যায় নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। তাতে ছিল ‘ভালোবাসার ধর্মঘট, চলছে, চলবে’, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ভণ্ড প্রেমিক গেলো কই’, ‘কেউ পাবে আর কেউ পাবে না, তা হবে না, তা হবে না’, ‘এক দফা এক দাবি, প্রেম হোক সর্বজনীন’- এমন অনেক স্লোগান। মিছিলটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, টিএসসি, শহীদ মিনার, পলাশী, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ঘুরে কলা ভবনের সামনে বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি এলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের একটি বিশাল অংশ প্রেম থেকে বঞ্চিত হয়। এটা আমাদের কাম্য নয়। কেউ খাবে তো, কেউ খাবে না, তা হবে না। সমাবেশে অভিযোগ করে বলা হয়, আমরা অতি গভীর ভাবে লক্ষ করছি, একজন ছেলে একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেম করছে। আবার একজন মেয়েও একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেম করছে। কেউ আবার এক বছর পর পর সঙ্গী পরিবর্তন করছে। আর আমরা প্রকৃত প্রেমিকরা চিরদিনই বঞ্চিত থেকে গেলাম। এটা মেনে নেয়া যায় না।
এ সময় সমাবেশ থেকে সমস্বরে ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ভণ্ড প্রেমিক গেলো কই’ স্লোগান দিতে থাকে প্রকৃত প্রেমিকরা। সমাবেশে যোগ দেয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রেম-ভালোবাসায় ভেজাল ঢুকে গেছে। প্রকৃত প্রেমিকরা আজ বঞ্চিত। যারা ভণ্ড তারা দিনের পর দিন প্রেম করে যাচ্ছে। প্রতারিত করছে প্রেমিকাদের। আর যারা প্রকৃত প্রেমিক তারা আজ বঞ্চিত। সমাজে ভণ্ড প্রেমিকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা আরো বলেন, প্রেম হয়ে গেছে এখন বাণিজ্যিক পণ্য। ভণ্ড প্রেমিকরা প্রেমকে কলুষিত করছে। পুঁজিবাদের কালোথাবায় ভালোবাসা হারিয়ে যাচ্ছে। এ কালোথাবা থেকে প্রেম-ভালোবাসাকে মুক্ত করতে হবে।