টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় সামসুন্নাহার মুন্নি (২০) নামের এক অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলা সদরে ঢাকা হসপিটালে এ ঘটনা ঘটে। মুন্নি উপজেলার জোগারচর গ্রামের হারুন মিয়া স্ত্রী। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মুন্নি উপজেলা সদরে অবস্থিত ঢাকা হসপিটালে আসে ডাক্তার দেখাতে। এ সময় ডাক্তার অরুন চন্দ্র রায় তাকে বলেন, আজকেই সিজার করতে হবে, পেটে টিউমার হয়েছে। সিজার না করলে বাচ্চা ও মা’র (মুন্নির) সমস্যা হবে। এ কথা শুনে মুন্নি সিজার করতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরে হসপিটালের ডাক্তার ও দালালদের চাপে পড়ে হসপিটালে ভর্তি হন মুন্নি। রাতে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে সিজার করার সময় মুন্নির মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গোপন রেখে দেন।
শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টায় মুন্নির পরিবার তার কথা জিজ্ঞাসা করলে জানানো হয় মুন্নির মৃত্যু হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুন্নির পরিবার ও স্থানীয় লোকজন হসপিটালে ভাংচুর করার চেষ্টা করলে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পরে হসপিটালে পুলিশ পৌছলে নিহতের পরিবারের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় উপজেলার স্থানীয় এক সাংবাদিক তারেক আহমেদ ছবি তুলতে গেলে কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) হাবিব তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্র্তীতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) বজলুর রহমানের নির্দেশে ওই সাংবাদিকের ক্যামেরা ফেরত দেয়া হয়। পরে পুলিশ হসপিটাল থেকে মুন্নির লাশ থানায় নিয়ে যায়।
ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে (ওসি/তদন্ত) বজলুর রহমান জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারনে এটি হয়েছে। এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।