নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমকির পর এবার গণমাধ্যমে নারীর পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলেছেন হেফাজতে ইসলামের এক নেতা। শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী গণমাধ্যমে নারীদের ‘দৃষ্টিকটু পোশাকে’ উপস্থাপন করা হয় বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ভিন্নরূপে আরেক ভয়াবহ আগ্রাসন চালানো হচ্ছে।
“ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশনা, উপস্থাপনা থেকে শুরু করে নাটক-সিনেমায় নারীদের নিয়মিতভাবে দৃষ্টিকটু পোশাকে উপস্থাপন করে এসব পোশাককে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
এর আগে গত বছর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ওয়াজের ভিডিওতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী নারীদের ‘তেঁতুলে’র সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বাবুনগরী বলেন, বর্তমানে রাস্তাঘাটে, মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী ও নারীদের পোশাক-আশাকের ধরন দেখলে এমন আশঙ্কার বাস্তবতা দেখা যায়।
মাহফিলে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, মুসলমানদের ঈমানি দুর্বলতা ও অনৈক্যের সুযোগে দেশি-বিদেশি ইসলামের দুশমনরা নানা অপপ্রচার, ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে মুসলমানদের ঈমানী চেতনাকে নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
“সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, বেহায়াপনা, উলঙ্গপনা ও নারী-পুরুষের অবাধ চলাফেরার বিস্তার ঘটিয়ে তরুণ সামজকে বিভ্রান্ত করে ধর্মহীন করে গড়ে তুলতে চাইছে।”
এর আগে গত মঙ্গলবার নগরীর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমিক দেন হেফাজত নেতারা।
ওই সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “হেফাজত ইসলামের আন্দোলনের একবছর পূর্তি নিয়ে একাত্তর টিভিসহ কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্যচিত্র প্রকাশ করে আমাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। এজন্য আমাদের সাথে সাংবাদিকদের ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।”
এসব কারণে হেফাজত কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এজন্য হেফাজত ইসলামের মিছিল সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হতে পারে।”
গত বছর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ওয়াজের ভিডিওতে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী নারীদের ‘তেঁতুলে’র সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ নিয়ে বাংলাদেশের নারী নেত্রীসহ বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। এরপর গত বছরের ২ নভেম্বর হাটহাজারীর পাবর্ত্য উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের এক সমাবেশে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন আহমদ শফী।
ওই সমাবেশে শফী বলেন “কোনো জায়গায় একটা ওয়াজ করেছিলাম। আমার আগের পরের কথা কিছু আনে নাই। শুধু বলতেছে, মহিলাদেরকে আমি কোনো সুযোগ দেব না। এটা একেবারে মিথ্যা কথা, ভুয়া কথা।
“মহিলাদেরকে বলছি, আমি মহিলাদেরকে রানীর সাথে তুলনা দিয়েছি। আমি মহিলাদেরকে ফুলের সাথে তুলনা দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “শুধু এ কথা বলেছিলাম, ফুল দেখলে সবাই নাকে লাগাইতে চায়। তার ঘ্রাণ নিতে চায়। সেজন্য তাদেরকে বলেছি তোমরা উলঙ্গ অবস্থায় এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করবে না।’
শুক্রবারের মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা তফাজ্জল হক হবিগঞ্জী ও বিশেষ অতিথি আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী।
অন্যদের মধ্যে আল্লামা আব্দুল হামিদ পীল সাহেব মধুপুর, আল্লামা মোস্তফা আল-হোসাইনী, আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।