• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন |

পার্বতীপুরে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ প্রতিমা ভাংচুর

parboপার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রঘুনাথপুর ঘাটপাড়া গ্রামে হিন্দুদের বাড়ীঘর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম ও পুলিশ সুপার রুহুল আমিন গত রোববার (১৯ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে কয়েকজন হিন্দু নিজেরাই বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, পার্বতীপুর উপজেলার রঘুনাথপুর ঘাটপাড়া গ্রামের অশোক চন্দ্র ও রঘুনাথপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মোজাহার আলীর মধ্যে ১৩ শতক জমির দিক (পার্শ্ব) উলেখ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ আসছিল। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে রোপা আমন লাগানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষে ৮/১০ জন আহত হয়। আহতদের কয়েকজনকে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে (হলদীবাড়ী হাসপাতাল) এবং গুরুত্বর আহত মোজাহারের ছেলে মেনহাজুল (২৭) সংকটাপন্ন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে ঘাটপাড়া গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডে অশোক ও পূর্ন চন্দ্রের দুটি রান্নাঘর, ভূপেনের গোয়ালঘর, কয়েকটি খড়ের গাদা ও বাঁশের চাটাইয়ে ঘেরা একটি মন্দির (বিশ্বকর্মা মন্দির)পুড়ে যায়। এছাড়া একটি দূর্গা মন্দির ও একটি কালি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। পার্বতীপুর ও পাশ্ববর্তী বদরগঞ্জ উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। খবর পেয়ে রাতেই দিনাজপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুশান্ত সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গত রোববার বেলা ১১টার দিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেনুল ইসলাম, হিন্দু পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি মন্দিরে একটন করে চাল এবং ৫টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেন।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী প্রশাসনের দু’জন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান-হামলা ও অগ্নিকান্ডের ধরন দেখে বিষয়টি তাদের কাছে পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হয়েছে। মোজাহারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন-শুক্রবারের ঘটনায় আহত হয়ে তার মা গোলশান আরা (৬৫) হলদীবাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভাই মেনহাজুল গুরুত্বর আহত হয়ে রমেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। রোগীর চিকিৎসা নিয়ে তারা ব্যস্ত। ঈদ-উল-ফিতরও তাদের এবার বিষাদে কেটেছে। কখন তারা হিন্দুরের বাড়ীঘরে আগুন দিলেন ও প্রতিমা ভাংচুর করলেন। তাদেরকে ফাঁসাতে হিন্দুরা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘাটপাড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হিন্দু জানান-শুক্রবারের ঘটনায় মোজাহারের ছেলে মেনহাজুল গুরুত্বর আহত হয়ে মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এতে অশোক আতংকিত হয়ে পড়ে এবং নিজে বাচাঁর জন্য তার গোত্রের লোকজন নিয়ে অগ্নিসংযোগ, মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাহমুদুল আলম বলেন,শুক্রবারের সংঘর্ষ ও শনিবার রাতের ঘটনায় অশোক চন্দ্র ও ডালিম কুমার রোববার বিকেলে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ মোজাহার আলী (৬৭) ও জাকির হোসেন (৩০) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন প্রকৃত ঘটনাটি তদন্ত করলেই জানা যাবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘাটপাড়ায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ