• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন |

হাতীবান্ধায় গৃহবধূকে গণধর্ষণ: আলামত নষ্টের আশংকা

Dorson-1হাতীবান্ধা : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণের পর রেললাইনের পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা । এলাকাবাসীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।

শনিবার দুপুরে হাতীবান্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্বামী চট্রগ্রামে শ্রমিকের কাজ করায় উপজেলার পূর্ব বিছনদই গ্রামের বাড়িতে তার ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে তিনি প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হলে ওই গ্রামের হরিস চন্দ্রের ছেলে মিন্টুসহ কয়েকজন তাঁর মুখ চেপে ধরে অদূরের রেললাইনের ধারে নিয়ে যায়। সেখানে একের পর এক লম্পট তাকে ধর্ষণ করলে একসময় অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরে সকালে অচেতন অবস্থায় এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ তার বৃদ্ধ মাকে নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাতীবান্ধা থানায় মামলা করার জন্য উপস্থিত হলেও একটি প্রভাবশালী মহল তাকে থানা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গৃহবধুর বৃদ্ধ মা বলেন, “অনেকেই মীমাংসার জন্য আমাদেরকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু আমরা থানা পুলিশের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ধর্ষকদের শাস্তি চাই। নইলে ওরা ( ধর্ষকরা) এলাকার অন্য কোন মেয়ের ক্ষতি করবে”।

এদিকে ধর্ষণের শিকার হয়েও হাসপাতালে ভর্তি ওই গৃহবধূর শারীরিক পরীক্ষা হয়নি বলে জানা গেছে। এতে করে বিষয়টি রফদফার স্বার্থে ধর্ষণের আলামত নষ্টের আশংকা করা হচ্ছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।

শুক্রবার সন্ধায় ভিকটিম নিজেই আপনার থানায় গিয়েছিল তখন মামলা নেননি কেন? এমন প্রশ্নে উত্তরে ওসি আব্দুল মতিন বলেন, তখন আমি ছিলাম না। হয়তো কোন দারাগোকে বিষয়টি বলেছে তারা, কিন্তু কেউ ওইসময় মামলা দেননি বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. রমজান আলী বলেন, এনিয়ে কেউ আবেদন না করায় ধর্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বলেন, পরীক্ষার ব্যাপারে আমরা ডাক্তারকে বলেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ