• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত

দিনাজপুরের চানাচুর বিক্রিতে জামালের কথা

Jamal Uddin Pic-003মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : দিনাজপুুরে ৮০ বছর বয়সেও সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন বৃদ্ধ জামাল উদ্দীন। গত ৫০ বছর ধরে তিনি সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রি করছেন। পেটের কারণে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাকে সেই ভোর থেকেই সাত মিশালীর সরঞ্জামসহ ভ্যান নিয়ে বের হতে হয়। জামাল উদ্দীন দিনাজপুর পৌর শহরের বালুবাড়ী ঢাকাইয়াপট্টি এলাকার বাসিন্দা।
বৃদ্ধ জামাল উদ্দীনের জন্ম ১৯২৯-৩০ সালের দিকে। যখন তার বয়স ২৪-২৫ বছর তখন থেকে তিনি সংসারের হাল ধরেন। সংসারের খরচ চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। ১৯৬২-৬৩ সালের দিকে এসে তিনি সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রির পেশা বেছে নেন। সেই থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যেই তার চানাচুর বিক্রির বয়স ৫০ বছর অতিক্রম করেছে।
দিনাজপুর মিউসিপ্যাল হাই স্কুল (বাংলা স্কুল) এর গেটের সামনে তিনি সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রি করেন। সকাল থেকে স্কুল ছুটি হওয়া পর্যন্ত এখানে দোকানদারী করেন। তার ক্রেতা বাংলা স্কুল ও জিলা স্কুলের ছাত্ররা। স্কুল ছুটির পর তিনি দিনাজপুর বড় মাঠে চলে যান। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে সাত মিশালী ও চানাচুর বিক্রি করেন। এছাড়া স্কুল বন্ধ থাকলে বড় মাঠেই দোকানদারী করেন। রাতে তিনি চোখে কম দেখেন। তাই সর্যাস্তের আগেই তিনি বাড়ী ফিরে যান।
বৃদ্ধ জামাল উদ্দীনের ২ ছেলে ২ মেয়ে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ে হওয়ার পর তারা নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাদের সংসারের খরচ চালাতেই কষ্ট হয়। তাই বৃদ্ধ পিতার খবর রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই বাধ্য হয়েই জীবন সায়াহেœ এসে তিনি আজো তার সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রির পেশাটি ধরে রেখেছেন।
বৃদ্ধ জামাল উদ্দীনের সাথে বাংলা স্কুলের গেটে কথা হলে তিনি জানান, আর তো কিছু করতে পারবো না। তাই জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত এই সাত মিশালী ও চানাচুর বিক্রি করেই বেঁচে থাকতে চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ