• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন |

রেলওয়ের ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান: নেই ভূমি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা

BRসিসি ডেস্ক: রেলের অব্যবহূত ও পরিত্যক্ত জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে রেলওয়ের ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ পরিকল্পনার খসড়া প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হলেও তাতে জমি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ নেই। দেশের কোথায় রেলওয়ের কতটুকু জমি কী অবস্থায় আছে, তা উল্লেখ করেই ইতি টেনেছে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রণীত খসড়া ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান।

জানা গেছে, সারা দেশে রেলওয়ের ৬১ হাজার ৬০৬ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৪০২ একর ও পশ্চিমাঞ্চলের ৩৭ হাজার ৭০৪ একর। এ জমির প্রায় অর্ধেক বা ৩০ হাজার ৫১৪ একর রেলের অপারেশনাল কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আর ৩১ হাজার ৯২ একর জমি রেলের নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহার হচ্ছে না। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৩৩ একর ইজারা দেয়া হয়েছে। বাকি ৪ হাজার ৬৩৬ একর বেদখল ও ১৩ হাজার ৪২৩ একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

ইজারা দেয়া জমি থেকেও রেলের আয় তেমন বেশি নয়। তাই অব্যবহূত ও পরিত্যক্ত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে ও তা থেকে আয় বাড়াতে ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। পাশাপাশি সারা দেশে সংস্থাটির সব জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০০৭ সালের জুনে এ-সংক্রান্ত ‘ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড প্রিপারেশন অব ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান অব বাংলাদেশ রেলওয়ে’ গ্রহণ করা হয়। বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান শেলটেক কনসালট্যান্টস ও ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টসকে এজন্য নিয়োগ দেয়া হয়।

সাত দফা সময় বৃদ্ধির পর সম্প্রতি এ দুই প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনাটির খসড়া প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে সে খসড়ায় জমির ব্যবহার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো পরামর্শ বা প্রস্তাবনা দেয়া হয়নি। এতে বলা হয়, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ৯ হাজার ২৫৯ দশমিক ১৯ একর ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৪ হাজার ৩৪০ দশমিক ৬৯ একর জমি ব্যবহার হচ্ছে। আর দুই অঞ্চলে যথাক্রমে ৯ হাজার ৪১৬ দশমিক ৭৬ একর ও ১৭ হাজার ৩৪০ দশমিক ৩০ একর জমি স্বল্পমেয়াদে ইজারা দেয়া হয়েছে। বাকি জমি বেদখল, পরিত্যক্ত রয়েছে বা দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ৫ হাজার ২৭৮ দশমিক ৬৬ একর ও পশ্চিমাঞ্চলে ৩ হাজার ৩৬৯ দশমিক ৩৯ একর জমি রয়েছে। বেদখল জমি পুনরুদ্ধার করে ও পরিত্যক্ত জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, রেলওয়ের ল্যান্ড ইউজ প্ল্যানে জমি ব্যবহারের পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো সুপারিশ নেই। এতে কোনো সমস্যা হবে না। বরং রেলের জমির সঠিক হিসাব পাওয়াটাই এক্ষেত্রে জরুরি ছিল। এর ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ নিজেই জমির ব্যবহার ঠিক করবে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রেলওয়ের ঢাকা ডিভিশনের অধীনে ১৫ হাজার ৩৯২ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৩৬ একর জমি রেলওয়ের নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহার হচ্ছে। আর ৮ হাজার ২৯৮ একর স্বল্পমেয়াদে ইজারা দেয়া ও ১ হাজার ৪২৪ দশমিক ৭ একর বেদখল বা দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ডিভিশনে ব্যবহূত, স্বল্পকালীন ইজারাধীন ও বেদখল বা দীর্ঘমেয়াদে ইজারাধীন জমির পরিমাণ যথাক্রমে ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৮৩ একর, ৪ হাজার ৩১৩ একর ও ৬৫৭ একর। একইভাবে পাকশী ডিভিশনে ১০ হাজার ১৪৫ একর জমি ব্যবহার হচ্ছে, ১১ হাজার ৯৩২ একর স্বল্পমেয়াদে ইজারা এবং ৪ হাজার ২৩৫ একর বেদখল বা দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেয়া। লালমনিরহাট ডিভিশনে ব্যবহার হচ্ছে ৪ হাজার ২৮৪ একর, স্বল্পমেয়াদে ইজারায় রয়েছে ৪ হাজার ৩৯১ একর ও দীর্ঘমেয়াদে ইজারা অথবা বেদখল রয়েছে ৭৯১ একর জমি।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশ্ন রাখেন, বেদখল জমি পুনরুদ্ধার ও পরিত্যক্ত জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের আয় বাড়ানো সম্ভব— এটা সবার জানা। এজন্য ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান দরকার নেই। আর কোন জমি কোথায় কোন কাজে ইজারা দেয়া আছে বা বেদখল রয়েছে, তার রেকর্ডও রেলওয়ের কাছে রয়েছে। এজন্য ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পরামর্শক নিয়োগ করা কী দরকার ছিল।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক বিচারে রেলের গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্টেশন— কমলাপুর, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এক্ষেত্রে শপিংমল বা বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। ডাবল লাইনের অংশ বাদ দিয়ে অন্যান্য জমিও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। আর কমলাপুরে আইসিডির অপ্রয়োজনীয় জায়গায় আবাসিক ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েও আয় বাড়ানো যায়। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ না থাকলে সেটা কীভাবে ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান হয়!

এদিকে ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান অনুযায়ী, রেলওয়ের ১ হাজার ৮৭১ একর জমির হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত ৩৬৯ একর জমির হিসাব পাওয়া যায়নি। এছাড়া ঢাকার আশপাশের আরো কিছু এলাকায় সংস্থার জমির হিসাব পাওয়া যায়নি। আর পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে লালমনিরহাট ডিভিশনের কিছু জমির হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে লালমনিরহাট-সোনাহাট, ভোটমারী-বুড়িমারী, রুহিয়া-পঞ্চগড়, রূপসা-বাগেরহাট (বন্ধ লাইন) ও রূপসা-মংলা রুটে জমির হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে আমজাদ হোসেন বলেন, রেলওয়ের জমির হদিস পাওয়া যাচ্ছে না— বিষয়টি এমন নয়। প্রকৃতপক্ষে এসব জমির কাগজপত্র ও মালিকানার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। ল্যান্ড ইউজ প্ল্যানের আওতায় সারা দেশে রেলওয়ের সব জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এজন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আশা করা যায়, শিগগিরই শতভাগ জমির সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে।

বণিক বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ