ঢাকা: আত্মহত্যাকারী মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খানের (৬২) সুইসাইড নোট ধরে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথামকিভাবে আইয়ুব খানের আত্মহত্যার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নানকে দায়ী করা লেখা সুইসাইটড নোটের সত্যতা নিশ্চিত করা গেছে। এতে আরও বেড়ে গেছে সচিব হান্নানের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা। এবার কেবল অপরাধ তদন্ত দলের বিশেষজ্ঞ দল নিশ্চিত করলেই চূড়ান্তভাবে প্রমাণ হয়ে যাবে, নোটটি আত্মহত্যাকারী মুক্তিযোদ্ধার।
অপরাধ তদন্ত বিভাগে হস্তলিপি বিশেষজ্ঞদের একটা ইউনিট রয়েছে। আইয়ুবের সুইসাইড নোট সেই বিশেষজ্ঞ ইউনিটের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের দেয়া চূদান্ত প্রতিবেদন এখনও পায়নি বলে দাবি করেছ তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তদন্ত মোটামুটি অগ্রসর হয়েছে জানিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার সাব ইন্সপেক্টর(এসআই) মামুন ফরাজি প্রিয়.কমকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আইযুব খানের তদন্তকাজ অনেক দ্রুত এগিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
আইয়ুবের আত্মহত্যার পর তাঁর হোটেল কক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট(সুইসাইড নোট)উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটে তিনি লিখেছেন,‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ ইউনিট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ঘোষণা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নানকে মাছ, শুঁটকি ও টাকা দেওয়ার পরও তিনি ইউনিট কমাণ্ড ঘোষণা করেননি। তাকে (সচিব) দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে তার বাসায় গেলে আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে অপমান করে বের করে দেওয়ায় আত্মহত্যা করলাম।’
মামুন ফরাজি জানান, চিরকুট মুক্তিয়োদ্ধা আইয়ুব খানের নিজ হাতে লেখা; যা তার ছেলে এবং ভাই সুইসাইটড নোটের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘শুধু এটুকু জেনে রাখেন হস্তলিপি বিশেষজ্ঞদের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন রিপোর্ট হাতের কাছে আসলেই আমরা সেটা দাখিল করবো।’
চাঞ্চল্যকর এ আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী নিহতের মামাতো ভাই আমির হোসেনের সঙ্গে রোববার কথা বলেছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, ‘আপনারা তো বুঝতেই পারছেন বড় মানুষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে যা হয় আরকি।’ তিনি দাবি করেন, ‘তদন্ত হচ্ছে তবে খুব ধীর গতিতে’।
শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকের সাথে একাধিকবার সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খানকে তিনি চেনেন না। তাঁর সম্পর্কে চিরকুটে যা বলা হয়েছে তা সত্য নয়।’
আত্মহত্যায় সহায় বা প্ররোচনাকারীকে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা অনুযায়ী ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আর আত্মহত্যার চেষ্টাকারীর শাস্তি দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় এক বছর কারাদণ্ড। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ‘প্ররোচণার অভিযোগ প্রমাণ হলে প্ররোচনাকারীকে গ্রেপ্তারে আইনগত বাধা নেই।’
গেল ৭ জুলাই রাজধানীর তোপখানা রোডে কর্ণফুলী আবাসিক হোটেলে বিষপানে আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া শাখা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আইয়ুব খান। তিনি চার পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট লিখে যান।
ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবর লেখা চিঠিতে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট কমান্ড ঘোষণার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএ হান্নানকে মাছ, শুঁটকি ও টাকা দেয়ার পরও কমিটি ঘোষণা না করায় টাকা ফেরত চাইলে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন। ওই অপমানের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলেও সুইসাইড নোটে লিখে যান। পুলিশ সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করে। সেটি পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হস্তলিপি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে।