বরগুনা: বঙ্গোপসাগরে আবারো জেলে বহরে সশস্ত্র গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পাথরঘাটা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের ডুবো জাহাজ পয়েন্টে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অপহৃত ট্রলারের মধ্যে এফবি বাবা-মায়ের দোয়া ট্রলারের মোস্তফা মাঝি, সোলায়মান, জামাল হোসেন, মিজান ও শানু মিয়া, এফবি মায়ের আর্শিবাদ ট্রলারের বশির মাঝি, এফবি বশির ট্রলারের মাঝি মাসুম মিয়া, এফবি পিমন ট্রলারের লাল চান মাঝি, এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের সোহরাব মাঝির নাম জানা গেছে।
গোলাম মোস্তফা জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ডুবোজাহাজ পয়েন্টে জেলেরা মাছ ধরছিল। এমন সময় সুন্দরবনের ২৫ থেকে ৩০ জনের সশস্ত্র দস্যু বাহিনী জেলে বহরে হামলা চালিয়ে অন্তত অর্ধশত মাছ ধরা ট্রলারে ডাকাতি করে রসদ সামগ্রী নিয়ে যায়।
এ সময় জেলে বহর থেকে ৫ ট্রলারসহ অন্তত অর্ধশত জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে ওই বাহিনী।
দস্যুদের হামলা থেকে ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, ওই দস্যু বাহিনী রাজু বাহিনী বলে পরিচয় দিলেও আসলে রাজু বাহিনী নয়। এটি পুরান বাহিনীর সদস্যের সমন্বয় নতুন কোনো বাহিনী হতে পারে।
অপহৃতদের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া, পিরোজপুর ভান্ডারিয়ার চরখালী ও বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকায়।
এদিকে ওই দস্যূ বাহিনী অপহৃত ট্রলার ও জেলেদের নিয়ে যাওয়ার সময় এফবি খানজাহান ট্রলারকে ধাওয়া করে। এ সময় ওই ট্রলারটি অন্যদিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে দস্যু বাহিনী গুলি ছোড়ে।
এতে ওই ট্রলারের পেছনের দিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
এ বিষয় কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা স্টেশন কমান্ডার লে. এস এ রউফ বলেন, ডাকাতির খবর আমরা শুনেছি। যেহেতু ঘটনাস্থল পশ্চিম জোনের আওতায়, আমরা পশ্চিম জোনকে বলেছি তারা অভিযানে নেমেছে।
এদিকে আমাদেরও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে রবিবার বঙ্গোপসাগর থেকে দস্যু বাহিনী ২৬ জেলেকে অপহরণ করে। তাদের এখন পর্যন্ত উদ্ধার কিংবা সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত কয়েকদিন ধরে বরগুনা পুলিশ সুপারের বিশেষ বিবেচনায় দস্যু দমনে সাদা পোশাকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাশাপাশি র্যাব-কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করে দস্যু গণডাকাতি উদ্বিগ্ন করেছে পুলিশ প্রশাসন ও উপকূলবাসীকে।