ঢাকা: দেশে সারের মজুদ বাড়াতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সৌদিআরব থেকে ২৫ হাজার টন ও কাতার থেকে বাকি ২৫ টন সার আমদানি করা হবে। এ জন্য মোট ব্যয় হবে ১১৪ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার টন সার আমদানি করতে ব্যয় হবে ৫৪ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর কাতার থেকে ২৫ হাজার টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ৫৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বৈঠকে সার ক্রয়ের দুটি প্রস্তাবসহ মোট নয়টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিািট।
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূইঞাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বৈঠকে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।
সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ লাখ টন। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এর নিয়ন্ত্রণাধীন সার কারখানাগুলোর সম্ভাব্য উৎপাদন সাড়ে ১২ লাখ টন ধরে চাহিদাকৃত ইউরিয়া সারের ঘাটতি মোকাবেলায় ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে তিনটি দেশ থেকে এ ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে সৌদিআরব থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া ও ২ লাখ টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া আমদানির পরিকল্পনা অংশ হিসেবে এ সার আমদানি করা হবে। একই ধরনের চুক্তির আওতায় কাতার থেকেও ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।
মোস্তফিজুর রহমান বলেন, সৌদিআরবের সঙ্গে চুক্তি অুনযায়ী প্রস্তাবিত ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সারের প্রতি টনের দাম ২৮০ দশমিক ৫০ ডলার হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় মোট ৫৪ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় কাতার কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রো-কেমিক্যাল মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি’ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম লটের ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে ৫৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা।