• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

মা-বাবার পক্ষে এও সম্ভব!

122372_1ঢাকা: সন্তানের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মা-বাবা। কিন্তু সেখানেই নিয়ত নির্যাতিত হয়েছেন শারমীন (ছদ্মনাম)। যৌন ব্যবসা করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়, বাবারও লালসা মেটাতে হয়েছে তাকে। আর এর সব কিছুতেই সহায়তা করেছেন জন্মদাতা মা। ঘটনাটি ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে। একটি বহুতল ভবনে আটকে রেখে ওই কিশোরীকে এসব অবৈধ কাজে বাধ্য করতেন তার মা ও সৎ বাবা।

শারমীনের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মঙ্গলবার পৌনে ১২টার দিকে পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের গাইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় নানার বাড়িতে এসে নানাকে সব অবহিত করেন শারমীন।

জানা গেছে, ওই কিশোরীর মা সাফিয়া আফরোজ দুবার পরকীয়ার টানে সংসার ছেড়েছেন। হয়েছেন মাদকাসক্তও। সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে মিলে সাফিয়া নিজের মেয়েকে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করেছেন। আর সৎ বাবার লালসা মিটিয়েছেন নিজের গর্ভের মেয়েকে দিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে শারমীনের মা পরকীয়ার টানে সংসার ত্যাগ করেন। তারপর থেকেই তিনি রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তার নানা আবুদল বাতেনের বাসায় থাকতেন।

এদিকে, শারমীনের মা দ্বিতীয় স্বামীকেও ছেড়ে দিয়ে সৈয়দ আলম টিপু নামে অন্য আরেকজনের সঙ্গে পরকীয়ার এক পর্যায়ে বিয়ে করেন। সৈয়দ আলম টিপু দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর বিজ্ঞাপন সেকশনে কাজ করতেন। এখন বেকার।

দেড় বছর আগে শারমীনের সৎ-বাবা এই সৈয়দ আলম টিপু ও তার মা মেয়েকে পড়ালখা করানোর কথা বলে নানার কাছ থেকে নিয়ে আসেন।

মেয়েকে তারা মিরপুর, পল্লবীর সাড়ে ১১ নম্বরের ‘শতাব্দী’ অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্লাটে আটকে রেখে অবৈধ কাজ করতে বাধ্য করেন। শারমীন রাজি না হলে তার উপর পাশবিক নির্যাতনও চালাতেন তারা।

শারমীনের নানা আবদুল বাতেন বলেন, ‘শারমীনের মা–বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে সে আমার কাছেই মানুষ হয়। কিন্তু দেড় বছর আগে পড়ালেখা করানোর কথা বলে তার মা ও সৎ বাবা আমার কাছ থেকে তাকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে মা শারমীনকে আমার বাসায় আর আসতে দিতো না তারা।’

তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার শারমীন পালিয়ে আমার কাছে ফিরে এসে সব ঘটনা বলে দেয়। তার মা ও সৎ বাবা দুজনই ইয়াবা আসক্ত। সৎ বাবা সৈয়দ আলম টিপু নিজেও তার সঙ্গে অবৈধ কাজ করার জন্য শারমীনকে বাধ্য করতো।’

ঢামেক হাসপাতালের ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, নির্যাতিত কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

পরে অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ