চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা মুরগীর ফার্ম এলাকা। এখানেই চেম্বার খুলে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রোগী দেখেন ডা. সুজন দেবনাথ (আপন)।
শনিবার দুপুরে এই ডাক্তারের চেম্বারে অভিযান চালান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমীন। অভিযান পরিচালনাকালে আপনকে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন- ২০১০ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী ন্যুনতম এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি না থাকলে ডা. পদবি ব্যবহারের সুযোগ নাই। তার কি কি ডিগ্রি আছে দেখাতে বলা হয়।
এই সময় কথিত ডা. আপন জানান তিনি ডিএমএস কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি সংক্রান্ত কাগজ দেখাতে বললে তিনি তাও দেখাতে পারেননি। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আপন কান্নাজড়িত কণ্ঠে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, তিনি এসএসসি পাসও করেননি। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ম্যাজিস্ট্রেটকে ভুয়া চিকিৎসক আপন জানান, মাত্র দুই মাস হলো তিনি এই প্রতারণার ব্যবসায় নেমেছেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আপনকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন- ২০১০ এর ২৯ (২) ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং মুচলেকা নিয়ে তার চেম্বারটি সিলগালা করে দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত একই এলাকায় মোস্তফা কামাল নামের অপর এক ভুয়া চিকিৎসককে এমবিবিএস ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও ডা. পদবি ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তার চেম্বারটিও সিলগালা করে দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমীন জানান, শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামের সাগরিকা ও অলংকার মোড় এলাকায় ভুয়া ডাক্তার, অবৈধ ও সরকারি ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তিনজন ভুয়া ডাক্তারের কাছ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ছাড়া তিনটি ফার্মেসিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ সরকারি ওষুধ, ফিসিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির দায়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।