• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন |

হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের তৈরি ডুলি

11 copyসিসি ডেস্ক: ধান, চাল, গম সংরক্ষণের বড় পাত্র বাঁশের তৈরি গোলা। এটি নীলফামারী জেলায় ডুলি বা ডোল কিংবা মাচা নামে পরিচিত। বাঁশ দিয়ে এ গোলা তৈরি করা হয়। গ্রামের গৃহস্থ কৃষক পরিবার গোলায় ধান সংরক্ষণ করে থাকেন। সারাবছর ধান সংরক্ষণ করতে গোলা খুবই উপযোগী। ধানের মৌসুমে ধান কেটে শুকিয়ে গোলাজাত করা হয়। প্রয়োজনের সময় গোলা থেকে ধান বের করে পুনরায় রোদে শুকিয়ে ধান ভাঙানো হয়। জেলার গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মতো চোখে পড়েনা ডোল বা মাচা।

গ্রাম বাংলায় আমন ধান কাটার পর গাদা করে রাখার পর এখন পুরোদমে চলছে ধান মাড়াই কাজ। ধান মাড়াইয়ের পর গোটা বছরের জন্য সংরক্ষিত রাখার যে ডোলা বা মাচা আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। যুগের হাওয়া পাল্টেছে, পাল্টেছে সারা বছরের জন্য ধান রাখার ধরণ। দু’চার জন বড় গৃহস্থ ছাড়া ছোটো- খাটো কৃষকরা এখন আর সেভাবে ধান মজুদ রাখতে পারেন না। খাওয়া- সাংসারিক খরচ মিটিয়ে যে সামান্য ধান থাকে তা কেউ বস্তায় কেউবা অন্য বাসন- কোসনেই রেখে দেন তা। ফলে এক সময়কার কৃষকদের অতি প্রয়োজনীয় ধানের গোলা বা মাচা এখন সচরাচর চোখেই পড়ে না।

অথচ একসময় গোল ভর্তি ধান না থাকলে গ্রামের গৃহস্থ পরিবার সেই বাড়িতে ছেলে- মেয়েদের বিয়ে পর্যন্ত দিতে আগ্রহী হতেন না। এই কথা এখনো গ্রামাঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে। যাতে ধান নষ্ট না হয় সে কারণে গোলায় ধান রেখে সেই গোলার মুখ মাটি দিয়ে লেপে দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়। আবার টাকার প্রয়োজন হলে গোলা থেকে ধান বের করে বাজারে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করা হত। সে সময়ে সমাজ ব্যবস্থা এখনকার মতো এত উন্নত ছিল না। তখন চোর- ডাকাতের ভয়ে গোলার ধানের ভেতর স্বর্ণ ও টাকা- পয়সা লুকিয়ে রাখা হতো। ধান রাখার এ পাত্রকে গোলা বা ডোল বা ডুলি আখ্যায়িত করার কারণও রয়েছে।

গোলা অপেক্ষাকৃত মজবুত। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। বাঁশের তৈরি গোলার ব্যবহার দিনদিন কমে যাচ্ছে। কারণ বাঁশ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম এলাকায় বেশিরভাগ স্থাপনা পাকা ও টিনের গড়ে উঠায় এই বাঁশের চাহিদাও কমছে। এ কারণে বাঁশের আবাদও কমে যাচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং বাঁশের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গোলা তৈরিতেও খরচ বেড়ে গেছে। গোলা বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে। একটি বড় গোলায় ৪০ থেকে ৫০ একটি ছোট গোলায় ২০ থেকে ৩০ মণ ধান সংরক্ষণ করা যায়। তবে গোলায় ধান রাখলে সমস্যাতেও পড়তে হয় গৃহস্থকে।

গোলায় ধান সংরক্ষণ করলে ইঁদুর ধান নষ্ট করে বেশি। ইঁদুরের হাত থেকে ধান রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে গোলার ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। বাঁশের তৈরি গোলার স্থান দখল করে নিয়েছে স্থায়ী পাকা অথবা টিনের গোলা। এই গোলা বাইরে রাখা যায় বলে ঘরের জায়গা খোলামেলা থাকে। তারপরেও ছোট্ট ছোট কৃষকরা হাটবাজার থেকে একটি বড় গোলা ৫শ’ থেকে ৬শ’ ও একটি ছোট গোলা ২শ’ থেকে ২৫০ টাকায় কিনে বাড়িতেই ধান সংরক্ষণ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ