সিসি ডেস্ক: ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা ভেঙে গেছে। এর আগে জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোট, এনপিপিসহ আরো কয়েকটি শরিক দল ২০ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যায়। তবে এসব দলের একটি অংশ অবশ্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে থেকে যায়।
এদিকে, সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া জাগপার নতুন সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুজিবুর রহমান অ্যাডভোকেট জাগপার নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে বহিস্কার করা হয়েছে এবং ২০ দলীয় জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি হুবুহু তুলে ধরা হলো, গণতন্ত্রের জন্য ফেনা তুললেও দলের ভেতর এক নায়কত্ব প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধাপরাধীর দায়ের অভিযুক্ত জামায়াতের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের মুক্তির দাবি, নির্বাচনী রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিপরিতে অবস্থান গ্রহণের কারণে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে দলীয় সভাপতির পদ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
গত রবিবার দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)র দিনব্যাপী বর্ধিত সভায় উপরোক্ত সিদ্ধান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জাগপা সহ-সভাপতি একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ বাবলুর সভাপতিত্বে সভায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি, হাজি মুজিবুর রহমান অ্যাডভোকেটকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ৪ এপ্রিল ২০১৭ দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এর পূর্বে নতুন কমিটির নেতৃত্বে সারা দেশে সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে।
সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নির্বাচন বর্জন করে হিংসাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানোর সিদ্ধান্ত কোনো সুস্থ রাজনীতির পরিচয় নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার রাজনৈতিক শিষ্টাচার মানা উচিত যা শফিউল আলম প্রধান কখনো মানেনি।
সভায় আরো অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে জাগপা প্রতিষ্ঠিত হলেও বার বার শফিউল আলম প্রধান তা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। তাই তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দেশের যুদ্ধাপরাধিদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন যা লাখো শহীদের রক্তের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতার শামিল।
সভায় বলা হয়, দেশ-বিদেশের বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের আহ্বানের পরও বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে জোট থেকে বের না করে বরং বিএনপি মহাসচিব দেশের প্রবীন নাগরিক প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ ও প্রখ্যাত মুক্তিযুদ্ধা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখে প্রমাণ করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে নয়। বরং যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে রক্ষা করতেই ব্যস্ত। তারপরও যখন বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের দলগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছিল তখন জাগপা সভাপতি জামায়াতের ইন্দনে সেই চেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থা গ্রহণ করেছেন। যা জাগপা পরিবারকে আহত ও ব্যাথিত করেছে।
সভায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অনুভূতির বিরুদ্ধে ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক দল জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করার কারণে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সাথে জাগপার সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় বোরহান উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, সরদার আলাউদ্দিন, প্রিন্সিপাল হুমায়ূন কবিরকে সহ-সভাপতি, ছানাউল্লাহ সানু, শিকার রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান চোকদার, মনির হোসেনকে যুগ্ম সম্পাদক, মুস্তাফিজুর রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক, আসলাম মাতবরকে অর্থ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।