রংপুর: জেলা পরিষদ নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার কে জানো তো? আমাদের কি ভোটার আছে? নেই। তাহলে নির্বাচন করে লাভ কী ? জাতীয় পার্টির এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বুধবার দুপুরে ৩ দিনের সফরে রংপুরে এসে পল্লী নিবাসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
এরশাদ বলেন, আমার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমার কোনো শাস্তি হবে না। যারা আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তাদের শাস্তি দেখার অপেক্ষায় আছি।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, নাসিরনগরে কি হয়েছে, কারা ভাংচুর করেছে সবাই তা জানে। পুনরায় সে কথা বলতে চাই না।
তিনি বলেন, মামলা দিয়েছে বিএনপি। এ মামলায় আমার কিছু হবে না। এই মামলা হিংসাত্মক এবং হয়রারি করার জন্য দিয়েছে। কোনো কোনো মামলায় শাস্তি হয়েছে, শাস্তি পেয়েছি। এখন শাস্তি খাটার দিন শেষ। আপেক্ষায় আছি যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে তাদের মামলা কবে হবে। শাস্তি কবে পাবে।
এরশাদ বলেন, নারায়নগঞ্জ সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে কিনা এ বিষয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। সেখানে আমাদের কোনো ভালো প্রার্থী নেই। তিনি বলেন, সেখানে আওয়ামী লীগের শক্তি অনেক বেশি। সে জন্য নির্বাচন করলে জিততে পারব কিনা সন্দেহ আছে আমাদের। তবুও আমার এমপি আছে তার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।
গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীর উপর হামলা প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, তারা খুব দুঃখি মানুষ। ব্যাপারটা নিয়ে আমরা দুঃখিত। যদিও বোধ হয় জমিটা সুগার মিলের। তবুও তাদের একটা ব্যবস্থা করা উচিৎ ছিল। তারা তো হ্যান্ড টু মাইথ। অনেক কষ্টে দিন যাপন করে।
তারা সবচেয়ে অবহেলিত উপজাতি। অনেকে গেছেন। সেখানে তার দিয়ে ঘেরা হচ্ছে। তাদের জন্য পুনর্বাসন করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। আশা করছি সরকার করবে।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক এমপি জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম ইয়াসির, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শাফিউল ইসলাম শাফি, সাবেক কাউন্সিলর আজমল হোসেন লেবু প্রমুখ।