• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন |

পদ্মার চরে গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষণ

মুন্সীগঞ্জ : জেলার লৌহজংয়ের পদ্মার চরে নিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ করেছে স্পিডবোট চালক ও তার সহকারী। রবিবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটার পর সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে ধর্ষিতা তরুণী নিজে বাদী হয়ে স্পিডবোট চালক রাজিব কম্পানী ও তার সহযোগী মিঠু সিকদারকে আসামী করে লৌহজং থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ধর্ষকদের এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, দুপুরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ধর্ষিতাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত ধর্ষক স্পিডবোট চালক রাজিব লৌহজংয়ের কুমাভোগ ইউনিয়নের ওয়ারী গ্রামের মজিদ কম্পানীর ছেলে এবং তার সহকারী মিঠু উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেক শিকদারের ছেলে।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুচ আলী জানান, রবিবার রাত ১০টায় ওই তরুণী তার স্বামীর বাড়ি বরিশালের কাউনিয়া উপজেলার পলাশপুর গ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ফেরিতে করে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে আসার জন্য রাত ১২টা নাগাদ কাঠালবাড়ি ঘাটে এসে পৌঁছান। ফেরিটি দেরি করায় ওই গার্মেন্টসকর্মীসহ আরো কয়েকজন কাঠালবাড়ি ফেরি ঘাট থেকে একটি স্পিডবোটে উঠে পদ্মা পাড়ি দেয়। স্পিডবোটটি শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছলে অন্য যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে নেমে যান। এসময় পাচঁশ টাকা নোটের ভাংতি না থাকায় মেয়েটিকে দেরি করায় স্পিডবোট চালক ও তার সহযোগী। লোকজন দূরে চলে গেলে স্পিডবোট চালক কৌশলে সেটি ঘুরিয়ে মেয়েটিকে পদ্মার চরে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চড়-থাপ্পড় মেরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষনের পর রাত আড়াইটায় মেয়েটিকে শিমুলিয়া ঘাটে নামিয়ে দিয়ে স্পিডবোট ঘাটে রেখে পালিয়ে যায় ওই দুই ধর্ষক। এ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়া মেয়েটিকে উদ্ধার করে লৌহজং থানায় নিয়ে যান এক রিকশাচালক। পরে সেখানে অভিযোগ করলে, থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদা রঙ্গের স্পিডবোটটি শিমুলিয়া ঘাট থেকে জব্দ করে। তবে, এসময় স্পিডবোট চালক রাজিব ও তার সহযোগি মিঠু আটক করতে পারেনি পুলিশ।

ধর্ষিতা ওই তরুণী জানান, রবিবার স্বামীকে ডাক্তার দেখিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার পথে স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় লৌহজং থানায় গণধর্ষনের একটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে আসামীদের সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আলামত হিসাবে স্পীডবোর্টটি পুলিশ জব্দ করেছে। ঘাট ইজারাদার আশরাফকে অভিযুক্ত বোট চালকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ