• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন |

নীলফামারীর ডিমলায় মাকে বেঁধে রেখে মেয়েকে গণধর্ষন

সিসি নিউজ: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের দুর্গম চর ছাতুনামায় শনিবার গভীর রাতে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মাকে বেঁধে রেখে মেয়েকে তুলে নিয়ে গণধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার সকাল ১১টায় ডিমলা থানা পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘটনাস্থলের বাড়ি থেকে ১ কিলোমিটার দূরে তিন সন্তানের জননী ফেন্সি বেগমকে (২৫) হাত বাধা ও সংজ্ঞাহীন অবস্থা তিস্তা নদীর নির্জন ও দুর্গম চর হতে উদ্ধার করে। ফেন্সি বেগমকে উদ্ধারের আগে ওই গৃহবধুর বৃদ্ধা মা ফাতেমা বেগমকে (৬০) মেয়ে জামাইয়ের বাড়ির উঠানে বাঁশের খুঁটিতে দঁড়ি দিয়ে হাত বাধা অবস্থায় দেখতে পাওয়া গেলে পুলিশ তাকেও উদ্ধার করে। মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফেন্সি বেগম ওই গ্রামের রশিদুল ইসলামের ও ফাতেমা বেগম ছাতুনামা গ্রামের কলিম উদ্দিনের স্ত্রী। ফেন্সি বেগমের স্বামী রিক্সা চালানোর কারনে ঢাকায় অবস্থান করছে।
এদিকে ফেন্সি বেগম গণধর্ষনের শিকারের কারনে তার শারিরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে বিকাল ৫টায় নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়েছে। এখানে পুলিশ পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।
ফেন্সি বেগমের মা ফাতেমা বেগম অভিযোগ শনিবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্তরা এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে। এরপর তার মেয়ে ফেন্সিকে মুখ হাত বেঁধে জোড়পূর্বক তুলে নিয়ে যেতে থাকে। বাঁধা দিতে গেলে দুর্বৃত্ত্বরা তাকে (ফাতেমা) জামাইয়ের বাড়ির উঠোনে হাতে দড়ি ও মুখে কাপড় দিয়ে বেঁধে রেখে দেয়। দুর্বৃত্ত্বরা তার মেয়েকে গণধর্ষন করতে পারে বলে ধারনা করছেন তিনি। এদের মধ্যে এলাকার কয়জনকে চিনতে পেরেছি। এরা হলো পাশ্ববর্তী গ্রামের মিস্টার, রহিম, দেলওয়ার ও চেতন। বাকীদের মুখ চিনতে পারলেও তাদের নাম জানিনা।
এদিকে মেয়ে ও মাকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তির পর ফেন্সি বেগমের জ্ঞান ফিরে এলেও তার শারিরিক অবস্থা দুর্বল ছিল। তবে বিকাল ৫টায় নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ফেন্সি বেগমকে ভর্তি করা হলে এখানে ফেন্সি সাংবাদিকদের জানায় তাকে বাড়ি হতে জোড়পূর্বক তুলে এনে মিষ্টার ও রহিম নামের দুইজন গণধর্ষন করেছে। এ সময় তাদের আরো ১০/১২ জন ছিল।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান রবিবার সকালে এলাকাবাসীর কাছে ঘটনা জানতে পেরে ডিমলা থানায় খবর দেই।
ডিমলা থানার এসআই শাহাবুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ফেন্সি ও তার মা ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফেন্সির বাবা কলিম উদ্দিনকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে কারা কি কারনে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও পরিস্কার ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ফেন্সি বেগম গণধর্ষনের শিকার হয়েছে তার এই অভিযোগে তাকে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য প্রেরন করা হয়। এ ছাড়া পুলিশের পাহারায় সেখানে তার চিকিৎসা করা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ