ঢাকা, ৩ নভেম্বর, সিসি নিউজ: যে কোনও প্রতিকূল অবস্থায়ও বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মওদুদ বলেন,‘এই নির্বাচনে গণজোয়ার হবে। সরকার সমঝোতায় না আসলে বাংলাদেশের মাটিতে গণবিস্ফোরণ হবে। কারণ এই সরকারের অত্যাচার মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মানুষের এখন অন্য কোনও আশ্রয় নেই, পথ নেই। ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে তারা একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল।’
জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার সমঝোতায় না আসলে বাংলাদেশের মাটিতে গণবিস্ফোরণ হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সরকার সংলাপ সমঝোতা করতে বাধ্য হবে। কারণ বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন বিএনপিবিহীন হবে না । যে কোনও প্রতিকূল অবস্থায় আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো। তার আগে আমরা যখন বিভিন্ন কর্মসূচি দেবো সেখানে যে গণজোয়ার হবে, সেটি দেখে সরকার সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে।’
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘এই সরকারের নিকট থেকে জনগণ একটা কথাই শিখছে মিথ্যা বলতে হবে। সদা সর্বদা মিথ্যা কথা বলিবে। কক্সবাজারে যাওয়ার পথে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা কারা করেছে,কে করেছে সবাই জানে। বাংলাদেশের মানুষ সকলেই জানে, এমনকি যারা এই হামলাকে অস্বীকার করছে তারাও জানে এটা আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সন্ত্রাসীরা করেছে। কিন্তু মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লজ্জাজনকভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে।’
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ করেছে। কারণ তারা গণমাধ্যম, সংবাদপত্র এবং দেশের মানুষের স্বাধীনতায় কখনও বিশ্বাস করে না। সেই কারণেই শুধু গাড়িবহরে নয়, গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ করেছে ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। সরকারকে শুধু এটুকু বলবো গাড়িবহরে হামলা করে বিএনপির অগ্রযাত্রা বন্ধ করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী আরও যাবেন।একটা অংশে মানুষের ঢল দেখেই এমন করছেন আপনারা? এই ধরনের গাড়িবহরে হামলা করে বিএনপি এবং জনগণের অগ্রযাত্রা বন্ধ করা যাবে না। আরও সফরে যাবো আমরা। দেখবো কত বহরে আপনারা আক্রমণ করতে পারেন।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড.কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।