• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

বিশ্বকাপে ম্যাচ সেরা যেসব টাইগার

লতিফ বাপ্পী।। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয় কোন দলের বিপক্ষে? জানি একমুহুর্তও ভাবতে হয়নি, চোখের পলক ফেলার আগেই জবাব দিতে পেরেছেন। আচ্ছা সেই ম্যাচে ম্যান অব দি ম্যাচ কে হয়েছিলো তা কি মনে আছে? প্রশ্ন শুনে নিশ্চয় হাসি পাচ্ছে! আসলে বিশ্বকাপে টাইগারদের সুখস্মৃতি খুব বেশি নেই, যেগুলো আছে তা টাইগার ভ্ক্তদের স্মৃতিতে সবসময় তরতাজা। মেগা ইভেন্টের গত আসরটাই এখন পর্যন্ত টাইগারদের সেরা, এবারে সেই সাফল্য টপকে যেতে চায় মাশরাফীর দল। পঞ্চপান্ডবের সঙ্গে সৌম্য-মিরাজ-মুস্তাফিজরা তাল মেলাতে পারলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। আরও একটু বিশ্বকাপের আগে টাইগারদের আগের আসরগুলোতে একটু চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক। বিশ্বকাপে টাইগারদের ম্যান অব দি ম্যাচ নিয়েই আজ আমরা আলোচনা করবো। ওহ! তার আগে প্রথম প্রশ্ন দুইটির উত্তর যদিও আপনি জানেন, তারপরও একবার বলে দিতে চাই, প্রথম জয় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে, ম্যান অব দি ম্যাচ মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।
১. মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, প্রতিপক্ষ: স্কটল্যান্ড, ২৪ মে ১৯৯৯
বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রথম জয়, নাইনটিজ জেনারেশন এই ম্যাচ ভুলতে পারবে না কখনও। প্রথম বিশ্বকাপে নান্নু-আকরামদের নিয়ে বড় কোনও প্রত্যাশা ছিলো না, তবে ভ্ক্তরা ধরে নিয়েছিলেন আসরে অন্তত স্কটল্যান্ডকে হারাবে বাংলাদেশ। ক্রিকেটারেরা হয়তো চাপটা নিয়ে নিয়েছিলেন, তাই আগে ব্যাট করতে নেমে ধ্বসে যায় টপ অর্ডার। মাত্র ২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় লজ্জার শঙ্কা জেগেছিলো, দলে রক্ষাকর্তা হিসেবে হাজির নান্নু। নাইমুর রহমান দূর্জয়, এনামুল হক মনিদের নিয়ে ছোটখাটো জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন। তার ১১৬ বলে ৬৮ রানের ইনিংসে ১৮৬ রানের পুঁজি পায় টিম টাইগার্স। মাঝারি এই পুঁজিকেই যথেষ্ট বানায় বোলাররা। ১৬৩ গুটিয়ে যায় স্কটল্যান্ডের ইনিংস। নান্নু বাংলাদেশকে এনে দেন প্রথম বিশ্বকাপ জয়।

২. খালেদ মাহমুদ সুজন, প্রতিপক্ষ: পাকিস্তান, ৩১ মে ১৯৯৯
ওয়াসিম-ওয়াকার-শোয়েব-সাকলাইন, যে কোনও ব্যাটিং লাইন আপের জন্যই ওরা ভয়ংকর। ইংলিশ কন্ডিশনে সেবার হট ফেবারিট পাকিস্তান। এই দলকে হারাবে আন্তর্জাতিক সার্কিটে পুঁচকে বাংলাদেশ, কে ভেবেছিলো? সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাদের হারিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকপে চমকে দিয়েছিলো আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দল। বিশ্বসেরা বোলিং লাইন আপকে বেশ ভালোভাবে সামাল দেন আকরাম ও বিদ্যুৎ। লোয়ার মিডলে খালেদ মাহমুদ সুজন খেলেন ২৭ রানের ক্যামিওকে ফাইটিং টোটাল পায় বাংলাদেশ। ২২৪ রানের র্টাগেটে খুব কঠিন কিছু নয় সাইদ আনোয়ার-আফ্রিদী ও সেলিম মালিকদের জন্য। সেসময়কার ভীতিজাগানিয়া তিন ব্যাটসম্যানকে দ্রুত ফিরিয়ে বাংলাদেশের কাজ সহজ করে দেন খালেদ মাহমুদ সুজন। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ওয়াসিমের দল। অলরাউন্ডিং পারফরমেন্সে ম্যাচ সেরা চাচা নামে খ্যাত খালেদ মাহমুদ সুজন।
৩. মাশরাফী বিন মর্ত্তোজা, প্রতিপক্ষ: ভারত, ১৭ মার্চ, ২০০৭
এই ম্যাচটা টাইগার ভক্তদের মনে বিশেষ জায়গা জুড়ে থাকবে সবসময়। এর আগে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আপসেট ঘটিয়েছিলো, কিন্তু ঘোষণা দিয়ে কোনও শক্ত প্রতিপক্ষ হারানোর ঘটনা এটাই প্রথম। ম্যাচের আগের দিন এক ইন্টারভিউতে মাশরাফী বলেছিলেন “ভারতকে ধরে দেবানি” যেটা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ এখন। মাশরাফী পোর্ট অব স্পেনে সেদিন কথা রেখেছিলেন। চার উইকেট নিয়ে একাই ধ্বসিয়ে দিয়েছিলেন সেসময়কার বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইন আপকে। ১৯১ রানের তাদের আটকে রাখার পরও ভয় ছিলো, কিন্তু বিশ্বকাপ অভিষেকে তিন তরুণ টাইগার বার্তা দিলো, ক্রিকেট বিশ্বে আবির্ভাব হচ্ছে নতুন শক্তির। তামিম-সাকিব-মুশফিকের ফিফটিতে পাঁচ উইকেটের জয় পায় বাশারের দল। তবে ৩৮ রান খরচায় চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার খেতাব মাশরাফীর।
৪. মোহাম্মদ আশরাফুল, প্রতিপক্ষ: বারমুডা, ২৫ মার্চ, ২০০৭
বারমুডাকে হারাতে পারলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার টিকেট মিলবে। বৃষ্টিতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ২১ ওভারে। মাশরাফী-রাজ্জাক-সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৯৪ রানের বেশি করতে পারেনি বারমুডা। জবাবে তামিম, আফতাবরা, নাফিসরা দ্রুত ফিরে গেলে শঙ্কা উঁকি দেয় ভক্তদের মনে। তবে সাকিব আর আশরাফীর মিলে বিপদ বাড়তে দেননি। ৩২ বলে ২৯ রান করে ম্যান অব দি ম্যাচ আশরাফুল
৫. মোহাম্মদ আশরাফুল, প্রতিপক্ষ: সাউথ আফ্রিকা, ৭ এপ্রিল, ২০০৭
সুপার এইটে টানা দুই ম্যাচ হেরে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যচের আগে টালমাটাল ড্রেসিং রুম। কিন্তু আশারাফুলের অতিমানবীয় ইনিংসে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তার ৮৩ বলে ৮৭ রানের ইনিংসে ২৫১ রানের পুঁজি আসে, সাউথ আফ্রিকা গুটিয়ে যায় ১৮৪ রানে।
৬. তামিম ইকবাল, প্রতিপক্ষ: আয়ার‍ল্যান্ড, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ, পরিচিত কন্ডিশনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডোমেনেটিং জয় টাইগারদের। তামিমের ৪৩ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। যদিও বাকি ব্যাটসম্যানরা সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০৫ রানে থামে ইনিংস, তবে অপেক্ষাকৃত দূর্বল প্রতিপক্ষের জন্য সেটাই যথেষ্ট হয়েছিলো। ম্যাচ সেরা তামিম ইকবাল।
৭. ইমরুল কায়েস, প্রতিপক্ষ: ইংল্যান্ড, ১১ মার্চ ২০১১
একটু খটকা লাগলো নিশ্চয়, এই ম্যাচে তো ভক্তদের মন জয় করেছিলেন শফিউল ইসলাম, তাহলে ম্যান অব দি ম্যাচ ইমরুল কিভাবে! হ্যাঁ এই ম্যাচের স্মৃতি মনে পড়লেই শফিউলের কথা বেশি মনে পড়ে, বিপদে পড়া দলকে টেনে তুলেছিলেন এই অলরাউন্ডার, তবে শুরুটা কিন্তু করেছিলেন কায়েস। ইংলিশদের দেয়া ২২৬ রানের র্টাগেটে ব্যাট করতে নেমে ৫২ রানের জুটি গড়েন তামিম-ইমরুল। ৩৮ রানে তামিম ফিরলেও ইমরুল অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন। তার ১০০ বলে ৬০ রানের ইনিংসটাই তো বাংলাদেশকে ম্যাচে রেখেছিলো, শফিউলকে দিয়েছিলো ভিত্তি।
৮. ইমরুল কায়েস, প্রতিপক্ষ: নেদারল্যান্ডস ১৪ মার্চ ২০১১
এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৬০ রান তোলে নেদারল্যান্ডস, জবাবে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান তামিম ইকবাল। আবারও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ইমরুল। এদিন আর কোনও ভুল করেননি বাঁহাতি ওপেনার। ম্যাচ শেষ করেই ফিরেছিলেন, ১১৩ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংসে ছয় উইকেটের জয় টাইগারদের।
৯. মুশফিকুর রহিম, প্রতিপক্ষ: আফগানিস্তান, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সেরা বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলো টিম টাইগার্স। আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচে মুশফিক-সাকিবের ফিফটতে ২৬৭ রানের পুঁজি বাংলাদেশের। মাত্র ৫৬ বলে ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক, তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাকিব, তার সংগ্রহ ৫১ বলে ৬৩ রান। মাশরাফী-রুবেলদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আফগানরা, ১৬২ রানে থামে তাদের ইনিংস।
১০. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, প্রতিপক্ষ: ইংল্যান্ড, ৯ মার্চ ২০১৫
বাংলাদেশ নকড আউট ইংল্যান্ডে ফ্রম দ্যা ওয়ার্ল্ড কাপ, জেমন এন্ডারসনের উইকেট উড়িয়ে দেয়ার পর ধারাভাষ্যকারের উচ্ছ্বাস। ডেথ ওভারে আনপ্লেয়বল রুবেল পুরো দেশকে মাতিয়েছিলেন উৎসবে, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে। শুধু এই কারণেই নয়, এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও একটি কারণে অনেক, বিশ্বকাপে প্রথম কোনও বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেছিলো এদিন। টাইগারদের আনসাং হিরো মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ১০৩ রানের ইনিংস এখনও চোখে ভাসে ভক্তদের। সেদিন দুই ভায়রা ভাই মুশফিক-রিয়াদের ইনিংসে স্কোরবোর্ডে ২৭৫ রান তোলে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি থেকে ১১ রান দূরে থাকতে আউট হন মুশফিক। রিয়াদের সেঞ্চুরি মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয় ইংলিশদের, আর রুবেলের চার উইকেট কফিনে ঠুকে দেয় শেষ পেরেক। ম্যান অব দি ম্যাচ রিয়াদ।

২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একটি ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে স্কটিশদের দেয়া ৩১৮ রানের টার্গেট ছয় উইকেট হাতে রেখে টপকে যায় মাশরাফীর দল। ম্যাচ হারলেও ১৫৬ রান করা কাইল কোয়েৎজারের হাতে উঠে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার। সেই ম্যাচে ৯৫ রান করে আউট হয়েছিলেন তামিম, মিস করেছিলেন বিশ্বকাপে বাংলাদেশীদের মধ্যে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার সুযোগ।
তবে একটা মজার বিষয় কি চোখে পড়লো? টাইগারদের পঞ্চপান্ডবের মধ্যে চারজনই জিতেছে বিশ্বকাপে ম্যাচ সেরার পুরুস্কার। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবের নাম নেই তালিকাতে। তাতে অবশ্য তার অর্জন একটুও কমছে না। এবারের আসরে নিশ্চয় সেই আক্ষেপ দূর করবেন সাকিব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ