সিসি নিউজ।। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন,‘৭১এর চেতনাকে ছিনতাই করার জন্য যেমনিভাবে ৭২এর চেতনা তৈরী করা হয়েছিল আজও ২০২৪ সালের এই মহান বিজয়কে ছিনতাই করার জন্য পতিত স্বৈরাচারের দোষরা এখনও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে’।
রবিবার সন্ধ্যায় নীলফামারী বড়মাঠে জেলা খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করে বলেন,‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেন মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের সংখ্যগরিষ্ঠ সেই সময়ের সাত কোটি মানুষের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশের হাজার বছরের চিন্তা চেতনা কৃষ্টি-কালচার ঐতিহ্যকে ভুলুণ্ঠিত করে ভিনদেশি একটি শক্তি তাদের দেশের সাংবিধানিক শক্তিকে, সাংবিধানিক মূল চেতনাকে আমাদের জাতির ওপর চাপিয়ে দিয়ে ছোট্ট একটি চিরকুটের মাধ্যমে একটি প্রেসকিপশনের মাধ্যমে আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের চিন্তা এবং চেতনার বিরুদ্ধে ৭১এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে একটি সংবিধান তৈরীর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৭১এর বিজয়কে ছিনতাই করা হয়েছিল।
সকলকে সজাগ থাকার আহব্বান জানিয়ে বলেন,‘যারা এই ৫ আগস্টের মহান বিপ্লব, গণঅভুত্থানকে বরদাস্ত করতে পারেন নাই তারা সড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এই আগস্টের বিপ্লব কিভাবে নসাৎ করা যায়, কলুষিত করা যায় তার সকল ষড়যন্ত্রের জ¦াল তাড়া বুনতেছে। এজন্য আমাদেরকে সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে। এই মহান বিজয়কে ছিনতাই করার জন্য পতিত স্বৈরাচারের দোষরা এখনও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে’।
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলের কথায় বলেন,‘৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ অনেকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শ্বৈরাচারী হাসিনার পতনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মানুষ নতুনভাবে মুক্ত এবং স্বাধীন হয়েছে। ১৫ বছর পর্যন্ত আমরা ছিলাম স্বাধীন বাংলাদেশের পরাধীন নাগরিক’।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার চট করে দেশে আসার কথার বরাত দিয়ে বলেন,‘ বলেন যে সীমান্তের আশেপাশে আছে চটকরে ঢুকে যেতে চায়। এখানে তার খুনি হাতরীলীগ আর হেরমেট লীগের সন্ত্রাসীদেরকে আবার জড়ো করবার পায়তারা চালাচ্ছে। আমি আগস্টের বিপ্লবী বাংলার তৌহিদী জনতাকে বলতে চাই এই পতিত দেশবিরোধী ঘষযন্তকারীর চক্রান্তকে যেকোন মূল্যে রুখে দিতে হবে। প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায়, প্রতিটি এলাকায় এলাকায়, প্রত্যেক থানায় থানায়, উপজেলায়, জেলায় জেলায় এই ষড়যন্তকারী পতিত স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ মঞ্চ গড়ে রাখতে হবে’।
পতিত স্বেরাচারী শেখ হাসিনা ৫০ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতিশোধের রাজনীতি করেছেন উল্লেখ করে বলেন,‘‘তার বিশ^াস ছিল এদেশের মানুষ তার বাবাকে অযথাই হত্যা করেছে। আর একারণে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। সে ৭৫ সালেই আন্তজার্তিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছিল যারা তার বাবাকে হত্যা করেছে সে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহন করবে। ৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাওয়ার পর তার বাকশালের সাড়ে তিন বছরের কালো শাসনের নিপিরীত বাংলাদেশের মানুষ সেদিন উল্লাস করেছিল। এই কারণে শেখ হাসিনা এই বাংলাদেশের সমস্ত মানুষের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহন করবার জন্যই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসেছিল। দেশটাকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। বাংলাদেশকে স্বাধীর রাষ্ট্র না দেখে অন্য একটি রাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করবার পায়তারা চালিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি তৃপ্ত ছিলেন না। তিনি তিলোকওয়ালী মূখ্যমন্ত্রী হয়ে তৃপ্ত ছিলেন। আর তিনি বাংলাদেশের বিভক্তির রাজনীতি করেছেন। সেই সা¤্রাজ্যবাদি ব্রিটিশের যে পলিসি ছিল, তাদের যে ষড়যন্ত্রের নীতি ছিল, ভাগ করো আর শাসন করো, এই নীতি প্রয়োগ করে এদেশের মানুষকে শেখ হাসিনা কখনো ঐক্যবদ্ধ হতে দেয়ানি। এই খেলা খেলতে খেলতে সে যাকে ইচ্ছা তখন তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দিত, যাকে ইচ্ছা তাকে রাজকার বানিয়ে দিত। এই ছিল শেখ হাসিনার ভেলকি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা জালার উদ্দীন আহমেদ, মাওলানা আতউল্লাহ আমিনী হাফেজ সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এনামূল হক মুসাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।