সিসি নিউজ : শুক্রবার ঈদ। এবার দেশের বাইরে ঈদ উদযাপন করবেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দলের অন্য নেতাদের মধ্যে কেউ বিদেশে, কেউ ঢাকায় আর কেউ নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। ১১ দিন দেশের বাইরে থাকবেন তিনি। দেশে ফিরবেন আগামী ৩ অক্টোবর। এর আগেই পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে লন্ডনের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেছেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ নেতা, মন্ত্রী ও তাদের ব্যক্তিগত সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্কে যাবেন কয়েকজন মন্ত্রী এবং দলীয় নেতা। তারাও এবার দেশে ঈদ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন- স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্র্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি।
অর্থমন্ত্রী গত ২১ সেপ্টেম্বর ২২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দেশ ত্যাগ করেছেন। তিনি দেশে ফিরবেন ১৬ অক্টোবর। যুক্তরাষ্টের ফ্লোরিডায় একমাত্র মেয়ের সঙ্গে ঈদ করবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রাষ্ট্রীয় সফরে ইতালিতে অবস্থান করছেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে ঈদ করবেন। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ঈদ করবেন রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায়। সভাপতিম-লীর সদস্যদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নূহ আলম লেনিন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদ করবেন ঢাকায়। অন্যদিকে সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নিজ নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জে ঈদ উদযাপন করবেন।
দুই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মাহবুব উল আলম হানিফ ঈদ করেবন নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায়। অপর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক নির্বাচনী এলাকা ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঈদ করবেন।
সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে আহমদ হোসেন ঈদ করবেন ঢাকায়। ঈদের দিন সকালে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে ঈদের নামাজ পড়বেন। পরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনী এলাকা মাদারীপুরে, বি এম মোজাম্মেল হক শরীয়তপুরে, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেটে, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জয়পুরহাটে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে ঈদ উদযাপন করতে ঈদের আগে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক টাইাঙ্গলে, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) ফারুক খান ঢাকায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর নীলফামারীতে, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার ময়মনসিংহে, আফজাল হোসেন ঢাকায় ঈদ করেবন। ঢাকায় ঈদ করবেন ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী। অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল রাষ্ট্রীয় সফরে ইংল্যান্ডে রয়েছেন। ঈদের আগে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামে, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলু, কোষাধক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল ঢাকায় ঈদ করবেন। শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, দফতর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান পরিবারের সঙ্গে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। দলের অপর দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনী এলাকায়।
কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, এ কে এম রহমতউল্লাহ ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।
আব্দুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সিমিন হোসেন রিমি, খায়রুজ্জামান লিটন, আমিনুল ইসলাম আমিন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, এস এম কামাল খুলনায়, তথ্য-যোগাযোগ ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক নিজ এলাকায় ঈদ করবেন।
বিএনপি: বিগত কয়েক বছরের মত এবারো বিএনপির বেশ কিছু সিনিয়র ও মাঝারি পর্যায়ের নেতাদের ঈদ কারাগারেই কাটবে। এছাড়াও তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতাদের ঈদ পালন করতে হচ্ছে কারাগারে না হয় আত্মগোপনে। সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএনপির খুব অল্প সংখ্যক নেতা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে নির্বিঘ্নে ঈদ পালন করতে পারছেন।
এদিকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে থাকায় আসন্ন ঈদুল আজহার দিনে বিশেষ কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই বিএনপির। কেননা অন্যান্য বছর চেয়ারপারসন দেশে থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও এবার তিনি লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের কাছে অবস্থান করছেন। সেখানেই ঈদ উদযাপন করার কথা রয়েছে। ফলে চেয়ারপারসনকে প্রতিবারের মতো ঈদের দিনটিতে কাছে পাচ্ছেন না দলটির নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে বিএনপি প্রধানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, দলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হলেও বেগম জিয়া দেশে না থাকায় এবার সেটা হচ্ছে না। তবে দলের পক্ষ থেকে ঈদের দিন বিকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে দোয়া ও ফাতেহা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন পর্যায়ে দলের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন।
এবার ঢাকায় ঈদ করবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সারোয়ারি রহমান ও মির্জা আব্বাস ঢাকায় ঈদ করবেন।
এছাড়াও ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শমসের মবিন চৌধূরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, এনাম আহমেদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবীব উন-নবী খান সোহেল ঢাকায় ঈদ করবেন।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদ করবেন গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে দেশে ফিরেছেন তিনি। মায়ের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে মঙ্গলবার বিকালেই তার ঠাকুরগাঁও যাওয়ার কথা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য তরিকুল ইসলাম নিজ জেলা যশোরে ঈদ করবেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালীতে, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খান ও আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার চট্টগ্রামে ঈদ করবেন।
অন্যান্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে, ফজলুল হক মিলন গাজীপুরে, মজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশালে, মো. হারুন রশিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ঢাকাতেই ঈদ করবেন।
এদিকে এ বছরও বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ অনেক নেতাকর্মীদের কারাগারে ঈদ পালন করতে হবে। এদের মধ্যে রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও এমকে আনোয়ার, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও আমান উল্লাহ আমান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র (বরখাস্ত) আবদুল মান্নান, সিলেটের মেয়র (বরখাস্ত) আরিফুল হক চৌধুরী। সাবেক সংসদ আসিফা আশরাফী পাপিয়া, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ কারাগারেই ঈদ করবেন।
অন্যদিকে এবার বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা দেশের বাইরে ঈদ করছেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় সেখানে ঈদ উদযাপন করবেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, আমির খসরু মাহমুদ চৌধূরী ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
এছাড়াও চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যাওয়ায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা যুক্তরাষ্ট্রে ও শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সিঙ্গাপুরে ঈদ করবেন। দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ভারতের শিলংয়ে ঈদ করবেন।