ঢাকা: বিএনপি-জামায়াতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে হঠাৎই আলোচনায় চলে আসেন আওয়ামী ওলামা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী। নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বলে দাবি করলেও তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তুলেছেন খোদ হেলালীর নিজ এলাকার ও সরকার-দলীয় (বাগেরহাট-৪) সংসদ সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়কমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন এই সংসদ সদস্য। শুধু স্থানীয় সংসদ সদস্য নয়, একই অভিযোগ বাগেরহাটের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদেরও। তবে অভিযোগের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন হেলালী।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ওলামা লীগের দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী ও মো. দেলোয়ার হোসেন। অন্যগ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী ও কাজী মাওলানা মো. আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।
সূত্রের দাবি, বিএনপি-জামায়াতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নজরে আসেন ইলিয়াস হোসাইন হেলালী। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তিনতলায় হেলালী গ্রুপের অফিস রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালীর নেতৃত্বাধীন ওলামা লীগের অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ারসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখা গেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছে আওয়ামী ওলামা লীগ। সর্বশেষ শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ওলামা লীগের এই দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইলিয়াস বিন হেলালীর সমর্থকদের সশস্ত্র হামলায় অন্য গ্রুপটির ১৫জন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার পর সশস্ত্র হামলা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন হেলালীবিরোধী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মো. আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।

সূত্র জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন ওলামা লীগের সভাপতি ইলিয়াস হেলালীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোড়লগঞ্জের ইলিয়াস হেলালী, বাবা মাওলানা মুনছুর আহম্মদ, বর্তমানে সে ঢাকাতে বাংলাদেশ ওলামা লীগ করেন। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি একজন সক্রিয় রাজাকার ছিলেন। তার বাবা-চাচা ১৯৭১ সালে অস্ত্রধারী রাজাকার ছিলেন। তার বড়ভাই আবু সালেহ শিকদারও অস্ত্রধারী রাজাকার ছিলেন। তাদের পরিবার ও বংশের সবাই স্বাধীনতাবিরোধী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এই অভিযোগের সঙ্গে হোগলাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও হোগলাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রত্যয়নও সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওলামা লীগের হেলালীবিরোধী অংশের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মো. আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২০০১ সাল থেকে মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী নেতৃত্বে আমরা রাজপথে সব ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে যখন কেউ পাশে দাঁড়াতে পারেনি, তখন আওয়ামী ওলামা লীগ সভানেত্রীর পাশে ছিল। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সুদাসদনে ডেকে নিয়ে আমাদের মাঠে থাকতে ও কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিলেন। আওয়ামী লীগের একদল অনুপ্রবেশকারী, যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগের নয়, তারা ওলামা লীগকে আওয়ামী লীগ থেকে দূরে সরাতে চায়। জামায়াতের অর্থপুষ্ট ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী নিজে রাজাকার। তারা আমাদের ওপর হামলা করে এটা প্রমাণ করেছে।
সংসদ সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শুধু ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী নন, তার পরিবারের অনেকেই রাজাকার ছিলেন। তার বড়ভাই আবু সালেহ ও চাচা রাজাকার। তিনি কিভাবে আওয়ামী লীগে ঢুকলেন। আমি প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনও মন্তব্য করতে জানি হননি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস।
এ প্রসঙ্গে ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী বলেন, আমার জন্ম ১৯৬৯ সালে। আমাকে বলা হচ্ছে রাজাকার। আমার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাগেরহাটের সংসদ সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন ভেবেছেন, আমি হয়ত সংসদ নির্বাচন করব। এ জন্য হিংসার বশবর্তী হয়ে এ ধরনের মিথ্যাচার করছেন।
তার ভাই আবু সালেহ শিকদারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের প্রসঙ্গে হেলালী বলেন, তার বিষয়ও মিথ্যা। কারণ, তথন তিনি ক্লাস ফোরের ছাত্র ছিলেন। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করি। এ জন্য বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে এসব অপ্রচার হচ্ছে।