গাইবান্ধা: শিশুর পায়ে গুলি করে স্থানীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন কারাগারে যাওয়ার পর এবার অস্ত্র বের করার চেষ্টা করে জনসাধারণের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন একই এলাকার জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খান।
বুধবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের থ্যালথ্যালার (গোডাউন বাজার) এলাকায় আগাম ভোট প্রার্থনা ও দোয়া চাইতে গিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অস্ত্র বের করার চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ডা. আব্দুল কাদের এর আগে সংসদ সদস্য থাকাকালীন বিভিন্ন প্রজেক্ট, প্রকল্প ও উন্নয়নের কথা বলে ওই এলাকার মানুষের নিকট থেকে অনেক টাকা-পয়সা নিয়েছিলেন। পরবর্তী নির্বাচনে লিটন নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আর ওই এলাকায় আসেননি। বুধবার আগাম ভোট চাইলে গেলে এলাকার মানুষ তার কাছ থেকে পাওনা টাকা চাইলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
এক পর্যায়ে আব্দুল কাদের উত্তেজিত হয়ে গাড়িতে রাখা অস্ত্র বের করার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে কাদেরের ওপর চড়াও হয়। পরে বাধ্য হয়ে জাপার এই সাবেক এমপি গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
এ ঘটনার পর থেকে কাদের খান তার লোকজন নিয়ে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত থ্যালথ্যালার বাজারে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ ও কয়েকজনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
তবে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধোপাডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক কওছর আজম হান্নু কাদের খানের হুমকিতে নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন। তারা নিরাপত্তা চেয়ে কাদের খানের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগের বিষয়ে কাদের বলেন, ‘স্থানীয় কিছু লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে।’ তবে লাঞ্চিত ও অস্ত্র বের করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
উৎস: শীর্ষনিউজ