ঢাকা : জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।
রাজধানীর ৯/এ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার দুই নম্বর রোডে একবিঘা আয়তনের সরকারি জমিসহ বাড়িটি(প্লট নং-১০, পুরাতন ৭০), বাড়ি নং-৬৫) ভুয়া দাতা সাজিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে দুদকের মামলায়।
বুধবার রাজধানীর বিকেলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দুদকের উপপরিচালক জুলফিকার আলী বাদি হয়ে মামলাটি(মামলা নং-৭) দায়ের করেন। দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৫১ সালের ৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডে অবস্থিত একবিঘা আয়তনের ১০ নম্বর (পুরাতন ৭০) সরকারি জমিসহ বাড়ি যা তৎকালীন কানাডার হাইকমিশনার মোহাম্মদ আলীর অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে মরহুম মোহাম্মদ আলীর ২য় স্ত্রী বেগম আলিয়া মোহাম্মদ আলী, পুত্র সৈয়দ মাহমুদ আলী ও কন্যা সৈয়দা মাহমুদা আলীর নামে হস্তান্তরে অনুমতি প্রদানসহ ১৯৭০ সালের ৩০ মে মাসে নামজারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ সালের ২২ মে মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ১৬ আগস্টে সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ রেজিষ্ট্রিকৃত ডেড অব এগ্রিমেন্ট ফর সেল নং–৩১১৫৪ দলিলে ভুয়া দাতা বেগম আলীয়া মোহাম্মদ আলী ও সাক্ষী কাজী আরিফুর রহমান সাজিয়ে ও কাগজপত্রে দেখিয়ে ওই সময়ের তৎকালীন জেলা রেজিষ্ট্রার এম আহমেদের সহযোগিতায় উক্ত সম্পত্তি দখল করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সারের ৫এপ্রিল কমিশন মামলাটি অনুমোদন দেয়। দুদকের অনুসন্ধানে ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দন্ডবিধি ৪১৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। তবে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার এম আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য না পাওয়ায় তাকে এজাহারভুক্ত করা হয়নি। মামলার এজাহারে ঘটনার সময়কাল ধরা হয়েছে ১৯৭৯ সালের ৯ আগস্ট থেকে ওই একই সময়ের ১৬ আগস্ট পর্য্ন্ত।
অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট সাংসদ ফিরোজ রশীদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
প্রাক্তন মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল অভিযোগ চলতি বছরের ৮ মার্চ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। একদিন পর উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা ও পরিচালক মো. নূর আহাম্মদকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।