• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

প্রচলিত আইনেও বিচার সম্ভব জামায়াতের!

জামায়াতসিসি ডেস্ক: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর বিচারে আইন সংস্কারে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রচলিত আইনে বিচার সম্ভব ছিল বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটিতে ট্রাইব্যুনালকে অপরিসীম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যাতে বলা আছে, যে চেতনা থেকে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সেখান থেকে কেউ যদি বিচ্যুত হয় তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে বের করে দিতে হবে। এ ছাড়া গোলাম আযমসহ বেশ কয়েক যুদ্ধাপরাধীর রায়ে জামায়াতকে একটি ‘ক্রিমিনাল সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সবগুলো রায় পর্যালোচনা করলে ট্রাইব্যুনাল সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল আইনেও বলা আছে, দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল যে কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আরো মনে করেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি রাষ্ট্রদোহ করে তবে সরকার চাইলে তার/তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রদ্রোহ ব্যক্তি কোনো নামেই কোনো সংগঠন চালাতে পারবে না। আইন অনুসারে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এর আগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামের বিচার প্রশ্নে আইন সংস্কারের বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপিত হবে মর্মে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক একাধিকবার সাংবাদিকদের বলেছেন। কিন্তু আইনের খসড়াটি এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়নি। তবে এই দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ কেন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ট্রাইব্যুনালকে অপরিসীম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। বিদ্যমান আইনেই জামায়াতে ইসলামের বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জার্মানের নুরেমবাগে নাৎসি পার্টিকে সেখানকার আদালত যেভাবে শাস্তি দিয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বাংলাদের সে দেশের ওই বিচারকে মডেল হিসেবে নিতে পারে। তিনি বলেন, জামায়াত একটি ক্রিমিনাল সংগঠন। এটি ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের বেশ কয়েকটি রায়ে পরিলক্ষিত হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করেও জামায়াতের বিচার করা সম্ভব। তাছাড়া আইসিটি আইনে বলা আছে, আইসিটি যদি কাউকে শাস্তিযোগ্য মনে করে তবে তা দিতে পারবে। সেই ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালকে দেয়া হয়েছে। সুতরাং বিদ্যমান আইনেও বিচারকাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল।

জামায়াত নেতা আবদুস সুবহানের ফাঁসির রায়ের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, খসড়া আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আছে। আমার মনে হয় আগামী সোমবারের (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকে না উঠলে এর পরের বৈঠকে (২ মার্চ) আইনের খসড়াটি উঠবে। ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট সচিবালয়ে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বিশেষ দূত স্টিফেন জে র‌্যাপের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আইনের খসড়াটি শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠছে। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে আইনমন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ওই মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের খসড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে উঠছে।

কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন (আইসিটি) সংশোধন হচ্ছে। খুব শিগগিরই আইনটির সংশোধনের প্রস্তাবনা মন্ত্রিসভায় ওঠানো হবে।’

জানা যায়, এই আইনের সংশোধনটি ঝুলে থাকায় সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারকাজও বিলম্বিত হচ্ছে। কাজ করতে পারছেন না প্রসিকিউটর, তদন্ত সংস্থা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা। আর এতে প্রশ্ন আসছে আদৌ সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারকাজ শুরু হবে কিনা? যদিও এর আগে বেশ কয়েকটি রায়ের পর্যবেক্ষণে সংগঠন হিসেবে জামায়াতকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ট্রাইব্যুনাল।

২০১৩ সালে ১৬ জুলাই জামাতের হেড অব কমান্ড গোলাম আযমের মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আর ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতকে একটি ক্রিমিনাল সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। একই সঙ্গে জামায়াতের নতুন প্রজন্মদের যুদ্ধাপরাধীদের দ্বারা বিভ্রান্তি না হওয়ারও জন্য মতামত দেয়া হয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, জামায়াত দলবদ্ধভাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। এ দলটি ১৯৪৭ সালে যেমন পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে, তেমনিভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টির সংগ্রামেরও বিরোধিতা করেছে।

এদিকে সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। যা ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছেন। এ প্রতিবেদনের আলোকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালে দাখিল করার কথা থাকলেও আইনগত জটিলতার কথা বলে প্রতিবেদনটি আর জমা দেয়া হয়নি।

২০১৪ এর ২৫ মার্চ ৩৭৩ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তদন্ত সংস্থা। একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র এবং এসব অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থতাসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে জামায়াত ও তার অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। জামায়াতের নীতিনির্ধারক, সংগঠক, পরিচালক এবং কেন্দ্র থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এসব অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামায়াত, তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ, শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী ও আলশামস বাহিনীর নানা নৃশংস অপরাধ এবং জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের যাবতীয় অপরাধের অভিযোগ তুলে আনা হয়েছে এ তদন্ত প্রতিবেদনে।

উৎসঃ   মানব কণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ