• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

গুলশান অফিসের ঘূর্ণিপাকে নিস্তেজ বিএনপি

বিএনপিসিসি ডেস্ক: রাজপথের আন্দোলন কিংবা সাংগঠনিক সক্ষমতা সৃষ্টি করতে না পারলেও একের পর এক বিতর্কের শিরোনাম হচ্ছে বিএনপি। দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি সুযোগসন্ধানী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে পুরো দলকেই এর খেসারত দিতে হচ্ছে। তাদের প্রতিনিয়ত অসাংগঠনিক তৎপরতার কারণে রাজনীতিতেই খেই হারিয়ে ফেলছে দলটি। কিন্তু তাদের এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নেতাকর্মীদের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও কর্ণপাত নেই হাইকমান্ডের। ফলে দিনে দিনে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে চিহ্নিত সিন্ডিকেটটি। আর তাদের প্রতিনিয়ত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাশুল গুনতে হচ্ছে পুরো দল ও দলের নেতাকর্মীদের।

দলের নেতাকর্মীরা জানান, ওয়ান-ইলেভেনের আগে থেকেই এই চক্রান্ত শুরু। যার ফলস্বরূপ ওই সময়ে মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পড়তে হয় তৎকালীন সরকারের রোষানলে। বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয় হাওয়া ভবন কেন্দ্রিক দলের রাজনৈতিক কার্যকলাপকেও। আর এ কারণেই পরবর্তী সময়ে দলের রাজনৈতিক কার্যালয় পরিবর্তন করে গুলশান এলাকার ২ নম্বর রোডে নিয়ে আসা হয়। এই রোডের ৮৬ নম্বর বাড়িকে ঘিরেই শুরু হয় নতুন করে ষড়যন্ত্র। আবির্ভাব ঘটে নতুন মোড়কে পুরনো সিন্ডিকেটের। এরপর নানা আলোচনা-সমালোচনায় পুরো বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা করতেই যেন তাদের মিশন-ভিশন শুরু হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি করা হয় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। নেতা আর কর্মীতে তৈরি করা হয় বিস্তর ফারাক। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকেও পুরো বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় বিগত দিনগুলোতে। নিয়ন্ত্রিত উপায়ে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ পান নেতাকর্মীরা। এমনকি দলের হেভিওয়েট নেতারাও এ নিয়ে পড়ে যান বিব্রতকর অবস্থায়। ফলে তারাও এড়িয়ে যেতে থাকেন গুলশান কার্যালয়কে। অন্যদিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মকৌশল পাচার করতে কার্যালয়ের অভ্যন্তরে স্থাপন করা হয় আড়িপাতার যন্ত্র। সেই সঙ্গে বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। উদ্ঘাটনও হয় সেই অপকর্ম। কিন্তু অধরাই থেকে যায় রহস্য। এমনকি কথিত সিন্ডিকেটের মূল হোতা শিমুল বিশ্বাসের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে বিগত দিনে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্তদের যারা ৩০ বছরের অধিক কাজ করছে (কাজের বুয়া, আয়া, মালী, ড্রাইভার, বাবুর্চি) তাদেরও বিভিন্ন অজুহাতে বিদায় করা হয়েছে। এমনকি বাসায় নামাজ পড়ানোর হুজুরকেও বিতাড়িত করা হয়। আর নিয়োগ দেয়া হয় সিন্ডিকেটের প্রতি আনুগত্যশীলদের। প্রভাবশালী ওই কর্মকর্তার অনুমতি ব্যাতিরেকে বেগম জিয়ার আত্মীয়দেরও বাসা কিংবা কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কার্যালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীও ওই সিন্ডিকেটের প্রভাবে কোণঠাসা। তার রোষানলে পড়লে কারো রক্ষা নেই। দলের ফান্ড কালেকশন নিয়েও রয়েছে তেলেসমতি ব্যাপার। বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নানা অজুহাতে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাতের ঘটনাও রয়েছে বলে গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়।

সূত্র জানায়, গুলশান কার্যালয়ের প্রথমে নিরাপত্তার দায়িত্ব পান এক সময়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লে. ক. (অব.) শহিদ উল্লাহ। কিন্তু সিন্ডিকেটের বিরাগভাজন হয়ে বেশি দিন টিকতে পারেননি। এরপর দায়িত্ব পান নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তা কমডোর (অব.) সফিক। তাকেও ষড়যন্ত্র করে বিদায় করা হয়। এরপর শিমুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লে. ক. (অব.) মজিদকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

এই সিন্ডিকেট বেগম জিয়ার পুরো বাড়ি এবং কার্যালয় কব্জায় নিয়ে এখন নজর বাড়িয়েছেন পল্টন কার্যালয়ের দিকে। এখানেও তার অনুগত হিসেবে পরিচিত সহ-দফতর সম্পাদক পদে একজনকে নিয়োগ দিয়ে তার প্রথম কার্যক্রম শুরু করেন। আর এই পালে নতুন হাওয়া দিচ্ছেন দলের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তিনি অনেকটা না বুঝেই এ ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছেন বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

তারা জানান, রুহুল কবির রিজভীকে ভুল বুঝিয়ে একক ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এবং গোটা দলকে নিয়ন্ত্রণে নিতে দলের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কাছে মিথ্যা কথা বলে তাদের সরকারি এজেন্ট, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে তাদের কান ভারি করে তুলছেন। আবার বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের দিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও নানা ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। তারা বলে বেড়াচ্ছেন তারেক রহমানকে অমুক দেশ পছন্দ করছেন না, অমুক বাহিনী চাইছেন না ইত্যাদি। এভাবে দলের সিনিয়র নেতা ও তারেক রহমানকে খালেদা জিয়ার কাছে মূল্যহীন করে নিজের অনুসারীদের দিয়ে দলকে ঢেলে সাজানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে পুরো এই সিন্ডিকেটটি। দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল শেষে ঘোষিত আংশিক কমিটিতে এর প্রতিফলনও দেখতে পাচ্ছে নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে বিএনপির রাজনীতিকে ভুল পথে চালিত করার যাবতীয় প্রচেষ্টাতেও তারা সিদ্ধহস্ত। বিগত দিনে এ রকম নানা উদাহরণ রয়েছে দলের মধ্যে। এর ভেতর জিয়া পরিবারের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে শোক ও সংহতি প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না দিয়ে এবং গেট থেকেই বিদায় জানানোর অপকর্মটিও তারা সাধন করেছিলেন। আর এখন দলের ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গুলশান কার্যালয় কেন্দ্রিক বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন আর দলে পদ-বাণিজ্যের অভিযোগ। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে দলের একজন সহ-দফতর সম্পাদকের কোটি টাকার বাণিজ্যের বিষয়টি। আর এই সিন্ডিকেটের সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বিএনপির এক নেতার বৈঠক। এ বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে তিনি গ্রেফতারও হয়েছেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের প্রশ্ন তার এ বৈঠক ষড়যন্ত্র সরকারের বিরুদ্ধে নাকি বিএনপির বিরুদ্ধে।

নেতাকর্মীরা জানান, গুলশান কার্যালয়ের এই সিন্ডিকেটের ভেতরে এখন তাল মিলিয়ে চলছেন দলের অনেক হেভিওয়েট নেতাও। ফলে বিস্তৃতি লাভ করছে সিন্ডিকেটটির। তাদের এই ডালপালার শাখা-প্রশাখায় এখন জুটেছে অনেক ধনাঢ্য নেতাও। এভাবেই পুরো চক্রান্তকারীরা ছড়িয়ে পড়েছেন দলের ভেতর ও বাইরে সবখানে। আবার গুলশান কার্যালয়েই প্রভাবশালী ওই কর্মকর্তার আপন ভাইসহ চাচাত ভাইকেও চাকরি দিয়েছেন। তাদের নামেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সম্প্রতি এই দু’জনের ব্যবসা আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়েও সংবাদ মাধ্যমে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। গুলশান কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থ-বিপত্তি নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত, টাকার বিনিময়ে বাড়তি সুবিধা প্রদানসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তাদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়েছে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। যার কারণে তারা বছরের পর বছর বহালতবিয়তেই আছেন।

দলের নেতাকর্মীদের ভেতর এসব নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। এদিন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এসব বিষয়ে দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, তৃণমূলের অনেক নেতা গুলশান কার্যালয়ে এসে আক্ষেপ করে ফিরে যাওয়ার বহু নজির রয়েছে। দলের চেয়ারপার্সনকে একনজর দেখতে এবং মনের কথাগুলো বলার জন্যই মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসেন তারা। কিন্তু কার্যালয়ের ওইসব প্রভাবশালী কর্মকর্তা সদস্যদের দুর্ব্যবহারের কারণে মনে কষ্ট নিয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়।

তিনি জানান, চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করতে তাদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় ড্রইংরুমে। ওইসব প্রভাবশালী কর্মকর্তাই সর্বক্ষণ বিএনপি প্রধানকে ঘিরে রাখেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকা সত্ত্বেও রাগে-অভিমানে একাধিকবার কার্যালয় ত্যাগ করার কথাও জানান তিনি।

উৎসঃ   মানব কণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ