• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

জনমত গঠনে জেলা সফর করবেন খালেদা

খালেদাসিসি ডেস্ক: বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে আগাম নির্বাচন (সংসদ) আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নামার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলের কয়েক নেতাকে আন্দোলনের রোডম্যাপ তৈরি করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আন্দোলনের প্রাথমিক কর্মপন্থা এরই মধ্যে তৈরি করেছেন। শিগগিরই সেই রূপরেখা দলের চেয়ারপারসনের কাছে জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক নেতা। তা নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়া।

জঙ্গিবাদের উত্থান, গুপ্তহত্যা বৃদ্ধিসহ আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, চলমান ইউপি নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও সহিংসতার চিত্র তুলে ধরাসহ জনসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তবে ধ্বংসাত্মক বা নেতাকর্মীরা চাপে পড়তে পারেন এমন কোনো কর্মসূচি দেবে না দলটি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঈদের পর জেলা পর্যায়ে সমাবেশ করতে পারেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জেলায় সমাবেশ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অহিংস এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা তুলে ধরতে চায় দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলটি।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হতাশা কমাতে ও মনোবল বৃদ্ধি করতে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সমাবেশ করবেন খালেদা জিয়া। এর প্রধান উদ্দেশ্য, সরকারবিরোধী জনমত সৃষ্টি ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা। ঈদের পর বৃহত্তর ফরিদপুরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসনের জেলা সফর। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

জেলা পর্যায়ের সমাবেশের পর রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপি। এসব কর্মসূচি সফল করতে পবিত্র রমজান মাসজুড়ে ইফতার পার্টির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত রাখার প্রক্রিয়া চালাবে বিএনপি। এ ছাড়া চলতি মাসের যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে দলটির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। এর পরই ঘোষণা হতে পারে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি।

সূত্রমতে, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকা-ে স্থবিরতা নেমে এসেছে। নিষ্ক্রিয় থাকায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন নেতারা। মনোনয়ন ও পদ-বাণিজ্যের অভিযোগে দলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা, বিরাজ করছে প্রচ- ক্ষোভ। তাই ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে দলের সর্বস্তরে গতিশীলতা আসবে বলে মনে করেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ক্ষমতাসীনদের বাইরে থাকা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করারও উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া ইফতার পার্টির মাধ্যমে কূটনীতিকদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনের ইঙ্গিত দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ঈদের পর আমাদের কিছু রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক দায়িত্ব আছে। সে দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই নেতা বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের অধীনে গণতন্ত্রের নামে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারে না। এর নাম কি গণতন্ত্র?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, মাঠে নামার আগে প্রথমে প্রয়োজন সাংগঠনিক শক্তি ও দলের ঐক্য। আন্দোলন সফল করতে হলে আমাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে। দলকে শক্তিশালী করে দ্রুত জনস্বার্থে রাজপথে নামা হবে।

বিএনপির নবনিযুক্ত যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দুর্নীতি চরম পর্যায় পৌঁছে গেছে। ক্ষমতাসীনরা এখন রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, সরকারের এসব অগণতান্ত্রিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে প্রতিবাদ জানানো হবে। সেই প্রতিবাদের কর্মসূচি কি হবে তা দলের চেয়ারপারসন ঠিক করবেন। তবে দ্রুতই বিএনপিকে মাঠে দেখা যাবে।

আস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ