• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন |

উন্নয়নের ‘কাটার মাস্টার’ শেখ হাসিনা: তাপস

তাপসঢাকা: সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস বলেছেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর কাছে কাটার মাস্টার এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রবিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। তাপসের বক্তব্যের সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘বাজেট উত্থাপিত হলেই বাজেট নিয়ে অনেক সমালোচনা শোনা যায়। সমালোচনার প্রধান বিষয় হল বাজেট উচ্চাভিলাষী। আমি সেই সমালোচক এবং নিন্দুকদের বলতে চাই, হ্যাঁ, বাজেট উচ্চাভিলাষী। আমরা জাতি হিসেবে উচ্চাভিলাষী, আর আমরা উচ্চাভিলাষী বলেই ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি। উচ্চাভিলাষী বলেই আজকে ৭ শতাংশের ঊর্ধ্বে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করতে পেরেছি। এত বড় আকারের বাজেট দিতে পেরেছি।

হ্যাঁ, আমরা উচ্চাভিলাষী বলেই আজকে রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আমরা উচ্চাভিলাষী বলেই পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করতে সক্ষম হচ্ছি। এমআরটিসহ মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তাপস বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। মানুষকে স্বপ্ন দেখান এবং সেই স্বপ্নকে সত্যে রূপান্তরিত করেন। এই হচ্ছেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। তাই আজকে বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে রোল মডেল। কারণ, আমরা দেখেছি, আমাদের ক্রিকেটার মোস্তাফিজ যখন ভারতে খেলতে গিয়েছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল ‘ম্যাগনিফিশেন্ট মোস্তাফিজ’।

আইপিএল-এ মোস্তাফিজ সারা ভারতকে তাক লাগিয়ে কাটার মাস্টার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাই আজকে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে বলে ‘ম্যাগনিফিশেন্ট বাংলাদেশ’। তেমনি আজকে সারাবিশ্বের কাছে বিস্ময় হলেন আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি হলেন উন্নয়নের ‘কাটার মাস্টার’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত ও গ্রহণযোগ্য।’

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের যে লক্ষ্য আমরা ঠিক করেছি, সেই লক্ষ্যের দিকেই যেতে পারছি। সুতরাং আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।’

গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন বয়কটের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যে কোনো নির্বাচন সম্পন্ন করাটা হল নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। সেই নির্বাচনে কে যোগ দিল আর কে যোগ দিল না তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। এই বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।’

সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ আমাদের। আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশকে কেউ পারেনি দাবিয়ে রাখতে।

কিসিঞ্জার বলেছিলেন, তলাবিহীন ঝুড়ি। কিন্তু এখন কি হয়েছে? অনেক বড় অর্থনীতিবিদরাও বলে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশের যদি সাকসেস হয় তাহলে যে কোন দেশই সাকসেসফুল হবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কী প্রমাণ করেছে? তারা আবারও প্রমাণ করবে, বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই।

কারণ, বাংলাদেশে এখন আবার টার্গেট কিলিং করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটাও সাকসেসফুল হবে না। ওনারা যখন দেখেছেন জ্বালাও পোড়াও করে হয়নি, মানুষ পুড়িয়ে মেরে হয়নি তখন তারা টার্গেট কিলিংয়ে গেছেন। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। কিন্তু এদেশের মানুষ সেটা সহ্য করবে না। দেশের মানুষ তাদের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তারা জীবনকে সমৃদ্ধ করতে চায়। তারা তাদের ভবিষ্যত বংশধরকে শিক্ষা দিয়ে মানুষ করতে চায়। তাদের গড়ে তুলতে চায়।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ