ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, পুলিশ-র্যাব দিয়ে সরকার মানুষ হত্যা করছে, দেশটা আজ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। তারা যা খুশি তাই করছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সারিনায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নেই অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, আমি কথা বলতে ভয় পাই না। কথা বলছি, আরো বলব। প্রয়োজন হলে এখনো রাস্তায় নামতে রাজি আছি। তার আগে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের নীতির কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘এই বিডিআর এখন বিডিআর নাই। একসময় এরা বাঘ ছিল, এখন বেড়াল। তাদের হাতে বন্দুক আছে, কিন্তু হুকুমও হয় না, নিজেরাও বোধ হয় ভুলে গেছে’।
অনুষ্ঠানে থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে উদ্দেশ করে খালেদা বলেন, ‘আপনারা আর্মির লোক। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আপনারা জানেন না? কেউ কেন কথা বলেন না। জোরে কথা বলেন।’
তিনি বলেন, হাসিনা ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা ঘটেছে। ৫৭ জন ভালো ভালো অফিসারকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোকে অবসরে পাঠিয়েছে। এর তদন্ত ঠিকমতো হয়নি, কোনো বিচার হয়নি। এর সঙ্গে কারা জড়িত আমরা জানি। যদি সাহস থাকে এগুলো বলা উচিৎ। সাহস করে এগুলো যখন বলবেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদ হবে।
বিজিবির সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে খালেদা বলেন, দেশের মানুষের ওপর গুলি চালাতে বললেন, গুলিটা ফট করে চালিয়েও দেবে। কিন্তু যদি বলেন, আমাদের শত্রু, সীমান্তের ভেতরে ঢুকে মানুষ মেরে যায়, তুমি কেন তাদের গুলি মারতে পারে না?
বিএনপি চেয়ারপারসন আরো বলেন, মিয়ানমারের মতো দেশ হেলিকপ্টার নিয়ে আমার আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, কেন গুলি মারতে পার না? এই বাঘ থেকে বিড়াল হয়েছে। আজকে সরকার সারাদেশের মানুষকে বিড়াল বানিয়ে রাখতে চায়।
তিনি বলেন, আজকে সকলকে টাইগারের ভূমিকায় আসতে হবে, লায়নের ভূমিকায় আসতে হবে, তাহলে শুধু দেশটাকে রক্ষা করা যাবে। আমি সবসময় আপনাদের সাথে আছি, থাকব।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই মঞ্চে ইফতার করেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) আইন উদ্দিন, ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ।
এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শাহ. মোহম্মদ আবু জাফর ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।