সিসি ডেস্ক: সকল রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে শিগগিরই একটি রূপরেখা দেবে বিএনপি। আগামী সপ্তাহে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন হতে পারে। ইসি যাতে একমাত্র সরকারের আস্থাভাজন না হয় সেই চিন্তা সামনে রেখে একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার যাচাই করে নির্বাচিত করার প্রস্তাব থাকবে বিএনপির রূপরেখায়। দলটির নেতারা আগে থেকেই বলে আসছেন, নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হোক। তাদের মতে, নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি হলে নির্বাচন কমিশনও নিরপেক্ষ হবে। এ জন্যই নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের বিতর্কের উদ্ধে রাখার বিষয়টি তুলে ধরতে চায় বিএনপি।
সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পবিত্র হজ্ব পালন শেষে নিয়মিত গুলশান কার্যালয়ে অফিস করছেন। ওই কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা প্রায়ই চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি কী ধরনের হতে পারে, নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যন্ত দল গোছানোর ব্যাপারে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। ওই আলোচনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বাম দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কতজন প্রতিনিধি থাকতে পারেন তা নিয়ে কথাবার্তা হয়। এ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারত, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ, ক্ষমতা ও নির্বাচনকালীন কার্যক্রম বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। কী কী বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে তার খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছে। খসড়া হওয়ার পর খালেদা জিয়া আবারও দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসবেন। এরপরই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে তাদের প্রস্তাব ও রূপরেখা তুলে ধরবেন। আগামীকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকেও নির্বাচন কমিশন নিয়ে আলোচনা হবে। তবে প্রয়োজনে বিএনপি নেতারা এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে কখনও সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন হয়নি। এই কমিশন সরকারের ইশারা-ইঙ্গিতে কাজ করছে। কীভাবে সরকারের প্রতিনিধিকে বিজয়ী করা যায়, সেই চেষ্টাই করে গেছেন এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তাই আমরা মনে করি জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজাতে হবে। শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন না হলে কখনও নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনে আমরা একটি প্রস্তাব দিতে চাই। তবে কবে প্রস্তাব দেওয়া হবে সময় বলা কঠিন। তিনি জানান, সম্ভবত আগামী সপ্তাহে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন কি-না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের আগে যেসব রাজনৈতিক দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে তাদের নিয়ে আলোচনা করা হোক। কিন্তু সরকার আমাদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে নির্বাচন কমিশন নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেব। আমাদের প্রস্তাবের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ চলছে। কবে প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নভেম্বরের মধ্যেই হবে।
এ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন শুধু বিএনপির দাবি নয়, এটা সারাদেশের মানুষের দাবি। কারণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের মানুষ কেন্দ্রে ভোট দিতে যেতে পারেননি। এজন্য দেশবাসী চায় সরকারের আজ্ঞাবহ নয়, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন।