সিসি ডেস্ক: ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে একঝাঁক নতুন নেতৃত্ব স্থান পেয়েছেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে। ইতিমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৭৪ সদস্যের নাম ঘোষিত হয়েছে। এখনো ফাঁকা আছে ৭টি পদ। তবে এবারের কমিটিতে তুলনামূলকভাবে নারীদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে।
দলীয় সভাপতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে প্রায় ২০ শতাংশ নারী স্থান পেয়েছেন। তবে একেবারে নবাগত হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে চমক সৃষ্টি করেছেন ৬ নারী নেত্রী।
দেশের নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুযায়ী আগামী ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সকল স্তরে নারী নেতৃত্ব ৩৩ শতাংশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্পাদকমণ্ডলীর প্রথম সভায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নারী নেত্রীদের কোটা পূরণ প্রসঙ্গে বলেন, আগের চেয়ে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনেও এটা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সামনে ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে কোটা পূরণ হবে।
শামসুন নাহার চাঁপা : ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটেছে শামসুন নাহার চাঁপার। তিনি শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে এই পদে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় থেকেই ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি ঘটে চাঁপার। তিনি শামসুননাহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পান।১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশের ফেরার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল।
উল্লেখ্য, তিনি একই কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের বোন।
ড. রোকেয়া সুলতানা : আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক পদে নতুন মুখ হিসেবে এসেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোকেয়া সুলতানা। তিনি দলের সরাসরি কোনো পদে ছিলেন না, তবে আওয়ামী লীগ সমর্থক পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে আগে ছিলেন ডা. বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলু।
পারভীন জামান কল্পনা : আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিতে নতুন মুখ হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী পারভীন জামান কল্পনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি। তিনি রোকেয়া হল ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য পদ লাভ করেন। আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
উল্লেখ্য, তিনি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (১৯৫২-১৯৫৩) ও আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের কন্যা।
মেরিনা জাহান কবিতা : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রথম বারের মতো সদস্য নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছেন মেরিনা জাহান কবিতা। সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগে তিনি দেশের বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। সব শেষে তিনি সরকারী বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বর্তমান আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুল খালেকের ভাইয়ের মেয়ে ও সিরাজগঞ্জের এমপি চয়নের ইসলামের বোন।
ড. শাম্মী আহমেদ : বরিশালের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মহিউদ্দিন আহমেদের মেয়ে শাম্মী আহমেদ। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। তিনি বরিশাল-৫ সংসদীয় আসন থেকে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফর্ম তুলেছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রয়াত মহিউদ্দিন আহমেদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিলেন।
মারুফা আক্তার পপি : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে নতুন মুখ হিসেবে এসেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মারুফা আক্তার পপি। জামালপুর সদরের পিয়ারপুর গ্রামের মেয়ে পপি ছাত্রলীগের লিয়াকত-বাবু (২০০২-২০০৬) কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।