ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “দেশ এখন দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের দখলে। দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক হলে জনপ্রতিনিধিরাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন, তা সহজেই অনুমেয়।”
শনিবার সন্ধ্যায় সরকার দলীয় গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে তার নিজ বাড়িতে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণেই ধারাবাহিকভাবে দেশে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বলেও মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল।
এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে রোববার বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শাসকগোষ্ঠীর অঙ্গ সংগঠনগুলোর দৌরাত্মে মানুষের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও আজ চরম হুমকির সম্মুক্ষিণ। এমনিতেই সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই তদুপরি গোটা সমাজের ওপর ভয় আর শঙ্কা পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হয়তোবা তাদের দমনে অসহায় কিংবা তাদেরকে প্রশ্রয় দিতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে বেপরোয়া হওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্যই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ভয়াবহ ধ্বস নেমেছে। দুস্কৃতিকারিরা যদি রাষ্ট্রীয় আনুকুল্য না পায় তাহলে তাদের পক্ষে কখনোই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অথবা বেপরোয়া হওয়া সম্ভব নয়।
“ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে প্রকাশ্যে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা প্রমাণ করে সন্ত্রাসীরা দেশের আইন-কানুনকে পরোয়া করে না এবং তারা ভয়ানক দুর্ধর্ষ। এমপি লিটনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রমাইনত হলো বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থা চরম নৈরাজ্যময়।”
বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, “আমি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এমপি লিটনকে হত্যাকারি দুস্কৃতিকারিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
পাশাপাশি নিহতের লিটনের জন্য গভীর শোক ও তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপি নেতা।