• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন |

`শুধু নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়’

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, শুধু নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। যদি সহায়ক সরকার না থাকে, তাহলে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। যারা লেভেল পেইং ফিল্ড তৈরী করে সবদলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচনে ব্যবস্থা করবে।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের ঘাসিপাড়ায় ছোট বোনের বাসভবনে একান্ত এক সাক্ষাকারে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান এসব কথা বলেন।
সাবেক এই সেনা প্রধান বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন গ্রহণযোগ্য নয় এ কথা বলতে চাই না। আমরা বলছি নির্বাচন কমিশনের কিছু ভুুলত্রুটি থাকতে পারে। যদিও সিইসি নিয়ে সমালোচনা ছিল তবুও তাঁকে আমরা একটা সুযোগ দিবো। আমরা নিরপেক্ষ বা তত্বাবধায়ক সরকার লাগবে এমনটাও বলছি না। বাংলাদেশের অতিতের অভিজ্ঞতার আলোকে ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি একটা নিরপেক্ষ বা সহায়ক সরকার থাকবে। যারা নিবাচনের সময় কোন ধরনের পক্ষপাতিত্ব করবে না।
গতবারের মত নির্বাচন বর্জন করতে চাই না উল্লেখ করে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, নির্বাচন বর্জন করার পরিবেশ বা সুযোগ যেন না হয়, আমরা এমনটাই আশা করি। সবদল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং সবদলের অংশগ্রহনে সর্বগ্রায্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটা নির্বাচন হোক। আর এ জন্যই আমরা সহায়ক সরকারের কথা বলছি। যে সরকার সবদলের অংশগ্রহনে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে।
বিএনপি নেতা লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, আমি আশাবাদী মানুষ, আমি মনে করি সরকার যদি নির্বাচনকে যদি প্রশ্নবিদ্ধ করতে না চান, তাহলে সহায়ক সরকারের দাবী সরকার মেনে নিবেন। কারণ এটা সরকারের জন্যও মঙ্গলজনক। সরকার যদি নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে নন্দিত করতে চায়, তাহলে সহায়ক সরকারের ভুমিকা দরকার। সহায়ক সরকারের ফ্রেমওয়ার্কটা হবে সব দল নিয়ে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। যেখানে কোন পক্ষপাতিত্ব থাকবে না।
বর্তমান সিইসি সম্পর্কে মাহবুবুর রহমান বলেন, অতিতে কেউ ছাত্রদলের নেতা, জামায়াতে ইসলামীর, কমিউনিষ্ট পার্টির অথবা ছাত্র ইউয়িনের নেতা থাকতে পারেন। কিন্তু যখন তিনি একটা দায়িত্ব নিলেন, তখন তাঁকে সেই দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্বটা পালন করতে হবে। আমরা সেনাবাহিনীর লোক হিসেবে মনে করি, আগে ছাত্রদল বা ছাত্র ইউনিয়ন যে দলেরই হোক, যখন সে সেনাবাহিনীর কমিশন নিলো তখন তাঁকে সেই দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনও ঠিক সেভাবেই দায়িত্ব পালন করবেন। সিইসি নিজেই বলেছেন যে, আমার অতিত নিয়ে কেউই যেন না ভাবে।
বিশ্ব ব্যাংক সম্পর্কে জানতে চাইলে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, “আজকে আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার জন্য চাপ আসছে। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কোন নজির বিশ্বে নেই বা কোন ইতিহাস নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী।” তাই আমি মনে করি, তিনি বাস্তব কথাই বলেছেন এবং এটাই যথাযথ। বিশ্ব ব্যাংক ভুল করতে পারে কিন্তু সেটা তো আমাদেরই ব্যাংক। বিশ্ব ব্যাংকের সুদের হার সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ৫ ভাগ মাত্র। বেশী সুদে টাকা নিয়ে আমরা তো কখনো মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো না। সুতরাং বিশ্ব ব্যাংকের সাথে আমরাও আছি। বিশ্ব ব্যাংক কোন ভুল করলে সাংবিধানিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমাদেরকে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গেই থাকতে হবে। আমরা বিশ্ব ব্যাংককে পরিত্যাগ করতে পারি না।  আমরা শুধু আশা করবো যে, বিশ্ব ব্যাংক ভবিষ্যতে এমন ভুল আর করবে না।
মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারের গণবিরোধী ও জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে এবং তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে দাবী মানতে বাধ্য করতে হবে। আমি মনে করি, এটাই গণতন্ত্রের বড় কথা। সরকার যতি ভুল করে তবে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবো। সরকারের ভুলটা তুলে ধরার চেষ্টার করবো।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার সাজা হলে কি করনীয় এ ব্যাপারে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি বলবো এটা আইনী লড়াই এবং আইনীভাবেই এটা মোকাবেলা করে এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সত্যিকারভাবে লড়লে সরকার রায় পাবে না। সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত আইনী লড়াই চালিয়ে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্দোষ প্রমাণ করে আনতে হবে। আর যদি রায় সরকারের পক্ষে চলেই যায়, সে ব্যাপারে সময়মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে গোটা জাতির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ যাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ সরকারের, বিরোধী দলের এবং জনগণের। এই চ্যালেঞ্জ সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। আমরা চাই না এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি হোক যে কারণে নির্বাচন বানচাল হয়ে যাক। যেখানে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক, যাতে আন্তর্জাতিক মহলও এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করতে না পারে। এ কারণে সরকার অত্যন্ত বিচক্ষনতার সাথে ব্যাপারটা বিবেচনায় নিবে। নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্যতা পায় এ ব্যাপারে সরকারকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। আর যদি এমন কিছু হয়েই যায়, তাহলে বিএনপি সাংবিধানিকভাবে একটা বড় দল। দীর্ঘদিন তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের জন্য অনেক কিছুই করেছেন। তাই সংবিধানের আলোকেই সব ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ