• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টায় বিএনপি

সিসি ডেস্ক: সরকারবিরোধী কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরেই দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে জাতীয় সংসদের বাইরে অবস্থান করা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের হতাশা। এছাড়া বিভিন্ন সময় দলটির বহু নেতাকর্মী নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় আটক হওয়ায় তাদের মধ্যে চলছে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা। বর্তমান রাজনৈতিক এ বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনের দিকেই চোখ রাখতে চাইছে দলটি। ২০১৯ সালের নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে দলটি। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে কেন্দ্রীয় নেতারা কাজ করছেন। এক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্যে থেকেই কাজ করতে চাইছে দলটি। এজন্য এ মুহূর্তে বড় কোনো আন্দোলনে না গিয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা-উপজেলায় লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে চাইছে দলটি। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এসব উদ্যোগ নিচ্ছে দলটি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বর্তমানে দলকে সংগঠিত করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সরকার আবারো একতরফা নির্বাচনের পথেই হাঁটছে। এমন চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ বিষয়ে একটি রোডম্যাপও প্রণয়ন করেছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারাও দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে সারা দেশ সফর করবেন। এর পরই মূলত নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে নামবে বিএনপি।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর বড় ধরনের সহযোগিতা পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল বিএনপির। কিন্তু কার্যত তাদের এ আশায় গুড়ে বালি পড়ে। কূটনীতিকদের জোরালো পদক্ষেপ না থাকায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচন রুখতে ব্যর্থ হয় দলটি। সহিংসতার ঘটনায় দলটির শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বহু নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। স্তিমিত হয়ে যায় দলটির সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি। সে সময়ও দলটির মূল দাবি ছিল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। কিছুটা নমনীয় হলেও এখন পর্যন্ত এ দাবি থেকে সরেনি দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে একতরফা কোনো নির্বাচন জনগণ আর হতে দেবে না। সে ধরনের কোনো অপচেষ্টা করা হলে একটি বৃহত্ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তা প্রতিহত করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। বিএনপি চায় দেশে নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এটা সরকারের বোঝা উচিত, দেশে গণতন্ত্র রক্ষায় নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এখন যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, তার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।

আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে এ নেতা বলেন, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্যে থেকেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ এবং অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দলের কর্মকাণ্ডকে আরো জোরালো করা হবে।

আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আসা-না আসা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে আসছে। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হতে পারে, এমন বক্তব্য দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগের নেতারা। আর এর বিপরীতে বিএনপি নবগঠিত নির্বাচন কমিশন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখেই একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ করে আসছে। এ ধরনের কোনো চক্রান্ত করা হলে তা বানচালের হুমকিও দিচ্ছেন দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলা দুটি দুর্নীতির মামলা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয়ও বিরাজ করছে। তবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আদালতের রায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া দণ্ডিত হলেও তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করে নির্বাচনের সুযোগ পেতে পারেন।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান জানান, আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে কোনো আলোচনা হয়নি। এখন পর্যন্ত উঠে আসা এ-বিষয়ক মতগুলো বিভিন্নজনের ব্যক্তিগত মতামত। তিনি বলেন, নির্বাচনের এখনো অনেক দেরি। সুতরাং পরিস্থিতি বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর মধ্যেই বিএনপি আন্দোলনকে জোরালো করতে কাজ করবে।

উৎসঃ   বণিক বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ