• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হল ইজতেমা

14
হাজিনুর রহমান শাহীন, গাজীপুর: রোববার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হল তাবলীগ জামাতের তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। তাবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেম  ভারতের দিল্লীর মাওলানা জোবায়রুল হাসান আল্লাহর রহমত ও মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। দুপুর ১২.৫৫ টায় মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় ১.১৫ টায়। দোয়া পরিচালনার পূর্বে তিনি হেদায়েতি বয়ান রাখেন। এর আগে রোববার ফজরের নামাজের পর থেকে তাবলীগ জামাতের অন্যান্য আলেমগন মোনাজাতের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ের  উপর বয়ান রাখেন। মাওলানা জোবায়েরুল হাসান মোনাজাতপূর্ব হেদায়েতি বয়ানে বলেন, আল্লাহর বান্দা এবং আখেরী নবীর উম্মত হিসেবে আমাদের উপর অনেক দায়িত্ব রয়েছে । এসব দায়িত্ব আল্লাহ ও রাসুলের দেখানো নিয়ম অনুযায়ী পালন করতে হবে। তিনি দ্বীনের প্রতি মানুষকে আহবান করার জন্য তাবলীগের মাধ্যমে সময় দেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমাদেরকে মৃত্যু পর্যন্দ দাওয়াতি কাজ করতে হবে। আমাদের এক মুহুর্ত যেন নষ্ট না হয় , প্রতিটি মুহুর্ত যেন আমরা কাজে লাগাতে পারি। আমাদের মেহনত যদি আল্লাহর কাছে কবুল হয়, তবেই আমরা সফলকাম হব। অন্যথায় আমরা ব্যর্থ হব। তিনি বলেন, আল্লাহর কাঝে আমরা সব সময় দোয়া করবো। নিজের অক্ষমতা, অপারগতা প্রকাশ করে দোয়া করলে, তা আল্লাহ কবুল করবেন।
প্রায় ২০ মিনিট ব্যাপী মোনাজাতের প্রথমে তিনি আরবীতে দোয়া পরিচালনা করেন।  তিনি আল্লাহর সাহায্য,হেদায়েত ও রহমত কামনার পাশাপাশি পরকালিন শান্তি, জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি ও বেহেস্ত নসীবের জন্য কান্নাকাটি করেন। তিনি বিশ্ব মুসলীমের শান্তি, ইজতেমাকে উপলক্ষ করে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের হেফাজত কামনা করেন। মোনাজাতের সময় ইজতেমার মূল প্রাঙ্গন ছেড়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নেমে আসে পিন পতন নিরবতা। লাখ লাখ মানুষ দোহাত তুলে জীবনের নানা অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে আমিন আমিন বলেন।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাতে শরিক হতে সকাল ৯ টার মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পূরো টঙ্গী এলাকা।  সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে ইজতেমা মাঠ ও এর আশেপাশে। এয়ারপোর্ট থেকে টঙ্গী, কামারপাড়া থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত, কলেজ গেট থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা এবং স্টেশন রোড থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ইজতেমায় আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে  শনিবার রাত থেকেই লোকজন আসতে থাকেন টঙ্গীর দিকে। রাজধানী ঢাকা,উত্তরা .আব্দুল্লাহপুর,সাভার ,আশুলিয়া,কালিগঞ্জ,গাজীপুর থেকে  রবিবার সুর্য উঠার আগেই আসতে থাকে মানুষের স্রোত। যানজট এড়ানোর জন্য জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ইজতেমা মাঠ পর্যন্ত এবং উত্তরা থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত গাড়ী চলাচল নিয়ন্ত্রন করার কারনে এসব এলাকার লোকজন পায়ে হেটে ইজতেমা মাঠে এসে মোনাজাতে শরীক হন।  মুসুল্লীদের আগমনে পুরো টঙ্গী এলাকার সব ফাকা জায়গা পরিপূর্ণ হয়ে যায় । ইজতেমার মূল ময়দান ছাড়িয়ে মানুষ অবস্থান নেয় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ,টঙ্গী আশুলিয়া সড়ক,টঙ্গী কালিগঞ্জ সড়ক, বিভিন্ন অলিগলি,বাসা বাড়ির ছাদ এমনকি তুরাগ নদীর পশ্চিম তীরে, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর,এয়ারপোর্ট এবং টঙ্গীর এরশাদনগর পর্যন্ত। মোনাজাত শুরু হলে লাখো মানুষের আমিন ধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা।
ইজতেমার মূল ময়দানে মহিরাদের অংশ গ্রহনের অনুমতিনা থাকলেও রোববার আখেরী মোনাজাতে অংশ নেয় বিপুল সংখ্যক মহিলারা । টঙ্গী, আব্দুল্লাহপুর, জয়দেবপুর, বোর্ডবাজার ও আশুলিয়াতে হাজার হাজর মহিলা সমবেত হয়ে এ দোয়ায় শরিক হন তারা । যানবাহন সংকট এবং জনস্রোত এড়াতে এসব এলাকায় মহিলাদের পাশাপাশি কয়েক লাখ পুরুষ অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে শরিক হন।
আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়া মানুষ একযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার চেষ্টা করেন। মুসুল্লীরা শুরু করে দেয় হুড়োহুড়ি এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এতে টঙ্গীর আশে-পাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় জনজট ও যানজট। ফলে আবারো পায়ে হেটে রওনা দেয় মুসুল্লীরা। আর পাঁয়ে হাঁটা মুসুল্লীদের চাপে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসুল্লীদের যানবাহন  বিকেল  পর্যন্ত থেমে থাকে ইজতেমা মাঠের আশে-পাশের এলাকায়। অন্যদিকে বিভিন্ন যানবাহনে কয়েকগুন বেশী  ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যায় ইজতেমায় আগত লোকজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ