সিসি ডেস্ক: পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার এক মাসেও যারা ‘ন্যূনতম’ কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি অথবা ‘চরম বিরোধ’ দেখা দিয়েছে এমন প্রায় ২০ জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিএনপি। একই সঙ্গে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় সবাইকে সম্পৃক্ত না করে এককভাবে কমিটি গঠন করছে এমন অভিযোগের সত্যতা মেলায় প্রায় ২৫ জেলাকে চিঠি দিয়ে ‘সতর্ক’ করে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান ৯ আগস্ট একটি চিঠিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা/মহানগর/থানা/উপজেলা/পৌর/ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে বলেছেন। ৯ আগস্ট ওই চিঠি যাওয়ার পর বিভিন্ন জেলায় সভা হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি গঠনের কাজও শুরু হয়েছে এমনটি জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
মো. শাহজাহান বলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কোনো জেলা ‘যৌক্তিক’ কারণে কমিটি গঠন করতে না পারলে তাদের সময় বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কেউ যদি অযৌক্তিকভাবে সময়ক্ষেপণ করেন কিংবা কাজ করতে ব্যর্থ হন; ওই জেলা কমিটি গঠনের দায়িত্ব কেন্দ্র নেবে। তাদের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হবে না।
জানা গেছে, ঈদের আগে কিংবা পরে পুনর্গঠনের সময় আরও এক মাস বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন যাওয়ার আগে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ও কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘দল পুনর্গঠনের প্রয়োজনে সময়ের সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে ব্যাপারে নিশ্চয় ম্যাডাম একটা সিদ্ধান্ত দেবেন।’
পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, কিছু জেলায় তেমন কোনো কাজই করেনি। আবার কয়েকটি জেলায় এককভাবে কমিটি হচ্ছে। এসব জেলা নিয়ে কেন্দ্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ওই নেতা বলেন, অনেক জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব এককভাবে অনেকটা স্বৈরাচারী কায়দায় পকেট কমিটি গঠন করছেন। এ বিষয়ে দলের কাছে অভিযোগ আসার পর তার সত্যতা মিলেছে। এর কয়েকটি জেলাকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার সভাপতি শাহজাদা মিয়া তার অনুসারীদের নিয়ে ইউনিয়ন, পৌর ও থানা কমিটি গঠন শুরু করেছেন। তার বিরুদ্ধে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সমর্থকদের অভিযোগ, তাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলছে। কেন্দ্রের কাছে এ অভিযোগের সত্যতা মেলায় ওই জেলাকে সতর্ক করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রের কাছে খবর আছে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলায় কোনো কাজই শুরু হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো ইউনিয়ন কমিটি পুনর্গঠন শুরু হয়নি। জেলা সভাপতি কেএম মোশাররফ হোসেন নেতাকর্মীদের খোঁজও নেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক নেতা এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন আমাদের সময়ের কাছে।
গুলশান কার্যালয় সূত্র বলছে, সেসব জেলায় কাজ হচ্ছে না এমন জেলা কমিটি ভেঙে দিতে তালিকা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তালিকা তৈরি করে খালেদা জিয়াকে তা দেখাবেন। তারপর ওই কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা আসবে।
ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, সাতক্ষীরা, রংপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় এ তালিকায় আছে।
কমিটি গঠনের সঙ্গে এলাকার স্থায়ী কমিটির সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্যসহ দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনিবার্য কারণে দায়িত্ব পালনে সক্ষম নন, এমন প্রবীণ ও যোগ্য নেতাদের দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতে সব পর্যায়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু অনেক জেলায় বিষয়টি আমলে নেওয়া হচ্ছে না। জেলার প্রভাবশালী নেতা এককভাবে কমিটি গঠন করছেন।
এ ধরনের কিছু জেলাকে চিঠি দিয়ে সবাইকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ‘কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সবার সমন্বয় জরুরি। কেন্দ্র থেকে এর আগে চিঠিতে সবার পরামর্শ নিতে বলা হয়। কিন্তু আপনার (সংশ্লিষ্ট) জেলায় তার ব্যত্যয় ঘটছে। তাই সবার পরামর্শ নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিচ্ছে কেন্দ্র।’