সিসি ডেস্ক: ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিবদমান অবিভক্ত মহানগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া কমিটির প্রশ্নে সমঝোতা করেছেন। ফলে ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা মহানগর উত্তরে মায়া ও দক্ষিণে এম এ আজিজকে সভাপতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। নগরের একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে এমনটা জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্বে নতুন কমিটি গঠন করা যায়নি। এদিকে সম্মেলনের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি দ্রুত কমিটি ঘোষণা করার পক্ষে। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফারুক খান এবং দক্ষিণে আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাককে কমিটি গঠনকাজের ভার দেওয়া হয়। তাঁরা বেশ কিছুদিন কাজ করে উত্তর ও দক্ষিণে দুটি সম্ভাব্য কমিটি আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে জমা দেন।
সূত্রগুলো জানায়, সুপারিশকৃত কমিটিতে মহানগর উত্তরে এ কে এম রহমতউল্লাহকে সভাপতি ও সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর দক্ষিণে এম এ আজিজকে সভাপতি ও শাহে আলম মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়। কিন্তু বর্তমানে মহানগরকে নেতৃত্ব দেওয়া দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা আজিজ ও মায়ার এ দুটি কমিটির প্রতি সমর্থন না থাকায় তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগরগুলোতে কমিটি গঠন করতে চায় আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়। শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও এমন সিদ্ধান্ত জানান দলীয় সভাপতি। এ সভার পরেই আজিজ ও মায়া নড়েচড়ে বসেন। সমঝোতার লক্ষ্যে সেদিন রাতেই তাঁরা এক দফা বৈঠক করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা জানান, শুক্রবারের বৈঠকের পর গত শনিবার দুপুরে মিন্টো রোডে ত্রাণমন্ত্রী মায়ার সরকারি বাসভবনে আবার আলোচনায় বসেন নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে এই দুই নেতা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা দুজন বিভক্ত মহানগরের দুই কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকবেন। এরপর তাঁরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বেইলি রোডের বাসায় যান। এ সময় এম এ আজিজ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ করেন মায়াকে উত্তরের সভাপতি পদে রাখার জন্য। আর মায়া অনুরোধ করেন এম এ আজিজকে দক্ষিণের সভাপতি পদ দেওয়ার জন্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা আরো জানান, এই দুই নেতা তাঁদের সমঝোতার কথা শেখ হাসিনাকে জানাতে সৈয়দ আশরাফকে অনুরোধ করেন। সৈয়দ আশরাফ দলীয় সভাপতিকে এক-দুই দিনের মধ্যেই এ সমঝোতার কথা জানাবেন বলে আজিজ-মায়াকে আশ্বস্ত করেন। আজিজ ও মায়া উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা এ কে এম রহমতউল্লাহ ও সাদেক খান-দুজনেই যে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে আসা, সে বিষয়টিও সৈয়দ আশরাফকে মনে করিয়ে দেন। এ দুই নেতাকে দিয়ে কমিটি গঠন হলে সংগঠন দুর্বল হবে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
এরপর শনিবার রাতে মায়া গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি গোটা ঘটনা দলীয় প্রধানকে খুলে বলেন। যদিও শেখ হাসিনা তাঁর মনোভাব প্রকাশ করেননি।
দলীয় অন্য একটি সূত্র জানায়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি করা হবে বলে সৈয়দ আশরাফকে জানিয়েছেন আজিজ ও মায়া। ফলে ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা নগর কমিটিতে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আসছে, এটি অনেকটা নিশ্চিত। উত্তরে মায়া সভাপতি হলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আসলামুল হক বা সাদেক খানকে দেখা যেতে পারে। আর দক্ষিণে এম এ আজিজ সভাপতি হলে সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন আওলাদ হোসেন অথবা শাহে আলম মুরাদ।
জানতে চাইলে এম এ আজিজ বলেন, ‘আমি নগরের সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে সাংগঠনিক কাজে যেতেই পারি। বিভিন্ন সময়ে গিয়েও থাকি। আজও (শনিবার) সাংগঠনিক কাজেই গিয়েছিলাম।’
মায়ার বাসায় বৈঠক প্রসঙ্গে এম এ আজিজ বলেন, ‘মহানগর সাধারণ সম্পাদকের বাসায়ও সাংগঠনিক কাজেই গিয়েছিলাম।’
ঢাকা মহানগর কমিটির প্রসঙ্গে এম এ আজিজ বলেন, ‘আমরা যে যা-ই বলি বা করি না কেন, নগর কমিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। উনি যেভাবে চাইবেন, যাকে চাইবেন নেতা নির্বাচিত করবেন। তবে উনি সংগঠনের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে দলের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।’