সিসি ডেস্ক: দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তৃণমূলের কোথাও পকেট কমিটি অনুমোদন দেয়া হবে না। এ কমিটি গঠনে ঢালাওভাবে সময়ও বাড়াবে না কেন্দ্রীয় বিএনপি। মাঠপর্যায়ের নিষ্ক্রিয় এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন এমন নেতাদের তৃণমূলের কমিটিতে রাখা হবে না। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
তৃণমূলের কমিটি গঠনের জন্য বিশেষ বিবেচনায় সময় বাড়ানো হবে। এর আগে সময় বাড়ানোর কারণ যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানা গেছে। কোনো সাংগঠনিক জেলা আবেদন করলে, তা যদি কেন্দ্রের কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়, তাহলেই সময় বাড়ানো হবে। যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারলে কেন্দ্রের বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হবে। এরই মধ্যে এ ধরনের ব্যর্থদের তালিকা তৈরির কাজ শুরুও হয়েছে। ব্যর্থ তালিকায় যাদের নাম উঠবে তাদের বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। দল পুনর্গঠনের সঙ্গে জড়িত নেতারা বলেন, যদি কেউ পকেট কমিটি করে, সেখানেও কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করবে। এ ছাড়া জেলা বা মহানগরের পাশাপাশি কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন- এদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়, নিয়মিত ঢাকায় থাকেন এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন তাদেরও একটি তালিকা করা হয়েছে। অপরিহার্য না হলে এ ধরনের নেতা তৃণমূলের কমিটিতে না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের হাইকমান্ড।
এ বিষয়ে শনিবার দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রধান সমন্বয়ক মো. শাহজাহান বলেন, অযৌক্তিকভাবে সময়ক্ষেপণ করে কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে ওই জেলায় কমিটি গঠনের দায়িত্ব নেবে কেন্দ্র। তাদের সময় বাড়িয়ে দেয়া হবে না। তবে কেউ যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে তাদের সময় দেয়া হতে পারে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান ৯ আগস্ট এক চিঠিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। মো. শাহজাহান বলেন, চিঠি দেয়ার পর সরকারের বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে যেভাবে তৃণমূলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে, তা আমাদের কাছে সন্তোষজনক। যেভাবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ৭৫টির মধ্যে ৪০টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মঙ্গলবার রাতে লন্ডন যাচ্ছেন। যাওয়ার আগে দল পুনর্গঠন বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কিছু নির্দেশনা দিতে পারেন।
পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, কিছু জেলায় তেমন কোনো কাজই হয়নি। আবার কয়েকটি জেলায় এককভাবে কমিটি হচ্ছে। এসব জেলা নিয়ে কেন্দ্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
ওই নেতা বলেন, অনেক জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব এককভাবে পকেট কমিটি গঠন করছেন। প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো সাংগঠনিক জেলা থেকে কেন্দ্রে অভিযোগ জমা হচ্ছে। যাচাই শেষে সত্যতা পাওয়ার পর কয়েকটি জেলাকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, পুনর্গঠনের চিঠি পাওয়ার পরও যেসব সাংগঠনিক জেলায় একবারেই কাজ হচ্ছে না- এমন কমিটি ভেঙে দিতে তালিকা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তালিকা তৈরি করে খালেদা জিয়াকে তা দেখাবেন। তারপর ওই কমিটিগুলো ভেঙে দেয়ার ঘোষণা আসবে। এ পর্যন্ত ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, সাতক্ষীরা, রংপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা এ তালিকায় আছে।
তবে এ বিষয়ে মো. শাহজাহান বলেন, সময় তো এখনও আছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর বোঝা যাবে কাদের কি অগ্রগতি। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দলে যাদের কোনো পদ-পদবি নেই, সেই নেতাদের দিয়ে দলের মূল্যায়ন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল আলম তালুকদারকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দলে আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সাত বছর পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ নেতার দেখা মিলল। তিনি বলেন, বাউফলে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করার পেছনে আমার কী অবদান তা দলের অনেকেই জানেন। সেই আমাকেই বাদ দিয়ে আমার থানায় কমিটি করা হয়। এ দুঃখ কাকে বলব। তারপরও ম্যাডামের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে আমাকে মনে রেখেছেন।
শনিবার টেলিফোনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে পুনর্গঠনের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, তৃণমূলে কমিটি গঠনে যে চিঠি দেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী কমিটি গঠন করতে হবে। এখানে কোনো ছাড় নয়। সবার মতামতে কমিটি গঠন করতে হবে। এখানে মুখ দেখে বা পকেট কমিটি করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো পকেট কমিটি অনুমোদন পাবে না। দল করতে হলে সবাইকে নিয়েই করতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে নয়। কেউ যদি নির্দেশনা অনুসারে কমিটি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেখানে কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কমিটি করে দেয়া হবে।