সিসি ডেস্ক: বিএনপির সারাদেশে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কোন কোন জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করে কমিটি গঠন করা সম্ভব হলেও দেশের সকল ওয়ার্ডে সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না। এই জন্য বিএনপিকে আশ্রয় নিতে হচ্ছে কৌশলের। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে তারা কোন হলে বৈঠক করতে না পারার কারণে কারো কারো বাড়িতে বৈঠক করছেন। আর ওই বৈঠক করেই ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করছেন। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই ওই সব কমিটি গঠন করার কথা রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কমিটি গঠনের মেয়াদ শেষ করার সময় সীমা পার হয়ে গেলেও তা করতে পারেনি। আর সেটা না করতে পারার কারণে তারা প্রধান কার্যালয়ে এই ব্যাপারে বিষয়টি জানিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে এক মাস করে সময় বাড়ানো হয়। সেই হিসাবে ৩০ অক্টোবর সময় শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলছে কিন্তু বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার সব ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে না। এই কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে এই সময় আরো ১৫ দিন বাড়িয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি তারা কেন্দ্রে জানিয়ে সময় বাড়াবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, এখন সময় শেষ হয়ে আসছে ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার টার্গেট রয়েছে। সেই হিসাবে আমাদেরকে নভেম্বরের মধ্যেই কমিটি গঠন করে শেষ করতে হবে। সেটা করার জন্য চেষ্টাও আমরা করছি। সব জায়গায় কমিটি করা যাচ্ছে না। কারণ প্রশাসন ও পুলিশ আমাদেরকে কোন জায়গায় এই জন্য কোন হল রুম ভাড়া নিতে দিচ্ছে না। কোন কোন জায়গাতে হল মালিকরা কেউ ভাড়াও দিচ্ছে না। এই কারণে আমাদের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কমিটি করতে আরো সময় লাগবে। তবে আমরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি করছি। প্রতিদিনই কমিটি করা হচ্ছে। প্রায়ই আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে ওয়ার্ড কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে ফোন পাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা যেখানে প্রকাশ্যে বৈঠক করতে পারছি, ওয়ার্ড করার জন্য সেখানে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না। যেখানে কোন বৈঠক করা যাচ্ছে না। এই জন্য বিভিন্ন নেতার বাড়িতে বাড়িতে নেতাদের ডেকে বৈঠক করা হচ্ছে। অনেক সময় অন্য এমন জায়গায় নেতাদের জমায়েত হতে বলা হয় যেটা হয়তো পুলিশ ও প্রশাসন ধারণাও করতে পারবে না। সেটা করে এই ঘন্টায় কমিটি করা হচ্ছে। ওয়ার্ড কমিটি করা বেশি সময় লাগে না কারণ বেশি বড় না তো একটি ওয়ার্ড।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করার বিষয়টি সব জায়গায় শুরু করতে আরো এক সপ্তাহ লাগতে পারে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে এটা শুরু হলে নভেম্বরের মধ্যে করা যাবে। জেলা পর্যায়ে কমিটি শুরু করার জন্য টার্গেট রয়েছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। যেভাবে আমাদের দমন করা হচ্ছে এই অবস্থার মধ্যে একটি কমিটি করাতো ভীষণ কঠিন। এই কারণে আমাদের সময় লাগছে। সরকার যে কৌশলই করুক না কেন আমরাও কৌশল ঠিক করেছি।
সূত্র জানায়, ওয়ার্ড , ইউনিয়ন পর্যায়ে এখন এক ঘন্টায় কমিটি হলেও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সেটা করা সম্ভব হবে না। এই কারণে কমিটির একটা মোটামুটি কাঠামো তৈরি করে এরপরই সেখানে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য বৈঠক করা হতে পারে। আসলে পকেট কমিটি সিস্টেম হলেও এটাকে ওইভাবে ঘোষণা না করে নেতাদের সামনেই করা হবে। তবে জেলা পর্যায়ে সেটা হয়তো সম্ভব হবে না। সেখানে চেষ্টা করা হবে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে করার। নাহলে পকেট কমিটিতো হতেই পারে।
সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন এখন দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি ফিরতে পারেন সামনের মাসে। তবে কোন দিন তারিখ ঠিক হয়নি। এই ব্যাপারে তারেক রহমানের ঘনিষ্ট বিএনপি এক নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের এখন চিকিৎসা চলছে। এই সময়ে চাইলেই তিনি দেশে আসতে পারবেন না। চিকিৎসা শেষ করেই দেশে ফিরবেন। পাশাপাশি এখনতো যেহেতু ঢাকার বাইরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ও ইউনিয়নে কমিটি হচ্ছে। এই জন্য ম্যাডামের চিকিৎসার জন্য আরো সময় লাগলেও কোন সমস্যা নেই। তা ছাড়া আগামী ১/২ মাসের মধ্যে বিএনপি নতুন করে আন্দোলনেও যাচ্ছে না। এই সময়ে ম্যাডাম বিদেশে থাকলেও কোন সমস্যা হবে না। এখন দলের মহাসচিব বাইরে আছেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যখন যেটা প্রয়োজন সেটা তাকে দিবেন। এই সব কমিটি করা হয়ে গেলে জেলা পর্যায়ে কমিটি করার সময়ে ম্যাডামকে দেশে থাকতে হবে। কারণ এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এরপর আসবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন। সেটা হবে ডিসেম্বরে। ম্যাডামের পরিকল্পনা ডিসেম্বরেই সেটা করবেন এই জন্য দলের নেতা কর্মীদের যেসব কাজ করতে হবে সেটাও করতে বলে গেছেন।
এদিকে সূত্র জানায়, বিএনপি দল সুসংগঠিত করার জন্য এখন কাজ করছে। নানা বাঁধার কারণে এটা করতে পারছে না। বিশেষ করে বিভিন্ন এলাকায় নেতা কর্মীদের নামে মামলা, তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা সব মিলিয়ে সমস্যা চলছে এই অবস্থায় সমস্যা বাড়ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এখন কমিটি গঠন চলছে। এটা শেষ করতে আরো ১৫ দিন লাগতে পারে। কোন কোন জেলাতে হয়তো আরো বেশি লাগতে পারে। এখন আমরা যে কৌশলে কমিটি করছি সেটা আশা করি সরকারের প্রশাসন ও পুলিশ বাঁধা তৈরি করতে পারবে না। অনেকটা গোপনেই ডাকা হচ্ছে নেতাদের। অন্য কোন এক নেতার বাড়িতে বসেই আমরা কমিটি করে ফেলছি। এই কারণে আমরা মনে করি কাউন্সিল করে আমাদের কমিটি করতে হবে। সরকার যত ধরনের বাধাঁ দিক না কেন সেই সব বাঁধাকে এখন আমরা প্রতিহত করেই এগিয়ে চলার চেষ্টা করছি। যেখানে পারছি না সেখানে কৌশল করছি। তবে তাও স্বচ্ছ ভাবেই করা হচ্ছে। কমিটি গঠন করা নিয়ে যাতে মাঠ পর্যায়ে জটিলতা তৈরি না হয় সেটাও দেখা হচ্ছে। কারণ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেই চেষ্টাও চলছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মধ্যে আমার টাঙ্গাইল জেলাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে তেমন বিরোধ নেই। তারপরও আমরা মনে করেছি হলভাড়া করে কমিটি করতে গেলে বাঁধা আসবে। এসেছেতো কোন কোন জায়গায়। হল ভাড়াও সব জায়গায় পাওয়া যায়নি। এরমধ্যেই আমরা অনেক ওয়ার্ডেই নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে বৈঠক করেই কমিটি করেছি। আসলে তো আমরা কোন জায়গা শান্তি পাচ্ছি না। সরকারের পুলিশ প্রশাসনের কারণে আমরা এক ঘন্টায়ও বৈঠক করে কমিটি করেছি এমনও আছে। আমাদের জেলার মতো অনেক জেলাই কৌশল করেই কমিটি করছে। কাজতো বন্ধ রাখা যাবে না। আস