সিসি ডেস্ক: দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিএনপি ‘নতুন ষড়যন্ত্র’ বললেও তাদের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) জোটের বাইরে গিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার দলটির সভাপতি অলি আহমদ কাউন্সিলে এই ঘোষণা দেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে দলের চতুর্থ কাউন্সিল করছে এলডিপি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটগতভাবে করা সম্ভব নয়। তাই নিজ নিজ এলাকায় আমাদের প্রার্থী ঠিক করতে হবে। এলডিপি আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেব।’
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট এখন পর্যন্ত এই নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিএনপিও এখন পর্যন্ত নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। তবে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় পাস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি বলেছিল, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের পদক্ষেপ জাতীয় নির্বাচনের দাবিকে পাস কাটানোর একটি ‘নীলনকশা’।
বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে নেতাদের বড় অংশের মত থাকলেও এখনো এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
কাউন্সিল অধিবেশনে অলি আহমদ বলেন, এখন রাজনীতি থেকে শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক জনতাবিমুখ হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের সবখানে দলীয়করণ। একে অপরকে ঘায়েল ও রাজনৈতিক নেতাদের বিতর্কিত করতে সবাই উঠেপড়ে লেগেছে। এভাবে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। দেশের স্থিতিশীলতার জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, অনেকে হতাশ হয়ে বলেন আর কতদিন। বাকশাল কায়েম করে আওয়ামী লীগ যে পাপ করেছিল, তার মূল্য দিতে হয়েছে ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে। এবারো তারা বাকশালের মতোই শাসন কায়েম করছে। আওয়ামী লীগ যখন বাকশাল কায়েম করে তখন সংসদে বিরোধী দল ছিল না। এবার এমন এক বিরোধী দল সংসদে রয়েছে, যারা সংসদে বিরোধী দল আবার সরকারের মন্ত্রিসভায়ও আছে। তারা গাছের নিচের টাও খাচ্ছে, আবার ওপরেরটাও নিচ্ছে।
নজরুল বলেন, এখন নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ আসে না, তারা পাঠায় পুলিশকে।
কাউন্সিল অধিবেশনে এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য কামাল উদ্দিন মোস্তফা, আব্দুল গণি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এলডিপির ভিন্ন মত নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে সার্বিক পরিস্থিতিতে কী করণীয় সেই সিদ্ধান্ত হবে। তার আগে তাদের কিছু বলার নেই।
উল্লেখ্য, দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও গত সাত বছরে উপজেলা, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী সমর্থনের ক্ষেত্রে জোটগতভাবেই সিদ্ধান্ত নেয় ২০ দল। জোটের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীর প্রচারে শরিক দলের নেতাকর্মীকেও দেখা যায়।