সিসি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর কড়া সমালোচনা করে তাকে ‘একজন বেঈমান’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। শেখ হাসিনা এক আলোচনা সভায় বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তাকে জার্মানিতে পাঠিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। অথচ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসনে সহায়তা করেছিলেন শমসের মবিন।
২০১৪ সালের ৩ আগস্ট রোববার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এ সমালোচনা করেন।
শমসের মবিন চৌধুরীর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিভিন্ন দূতাবাসে পুনর্বাসন করে। ওই দায়িত্ব পালন করেন আজকের শমসের মবিন চৌধুরীর ওপর। তাকে বঙ্গবন্ধু জার্মানিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বেঈমান চিরকালই বেঈমান। এটা হয়তো অনেকে জানেন না।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার এখন হারানোর কিছু নেই। যে আকাঙ্খা নিয়ে জাতির পিতা দেশ গড়েছেন, আমি সেটাই বাস্তবায়ন এগিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে অনেক ষড়যন্ত্র ছিল। সেটা অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করব।
বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘসময় কারাগারে ছিলেন শমসের মবিন চৌধুরী। কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর আন্দোলন থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন বিএনপির এই নেতা।
শমসের মবিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দলের কূটনৈতিক কর্মকান্ডগুলো দেখভাল করে আসছিলেন।
শমসের মবিন চৌধুরী স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে।
তার পৈতৃক বাড়ি সিলেট জেলায়। বাবার নাম আবদুল মবিন চৌধুরী এবং মায়ের নাম তাহমেদুন নাহার। তাঁর স্ত্রীর নাম শাহেদা ইয়াসমিন। পারিবারিক জীবনে শমসের মবিন দুই ছেলের বাবা।
১৯৭১ সালে শমসের মবিন চৌধুরী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রতিরোধযুদ্ধকালে চট্টগ্রামের কালুরঘাটের যুদ্ধে তিনি আহত হন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে বন্দী করে। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করলে তিনি মুক্ত হয়ে যান।
শমসের মবিন চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত থাকাকালে তাঁর চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। পর্যায়ক্রমে পররাষ্ট্রসচিব পদে উন্নীত হন এবং পরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন। পরে তিনি সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।