পাবনা: পাবনায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিনা চাষে রসুন উৎপাদন। এ পদ্ধতিতে পণ্যটি আবাদে সময় ও খরচ কম লাগে। অন্যদিকে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা বিনা চাষে রসুন আবাদে ঝুঁকছেন।
২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো দেশের পাবনা জেলায় বিনা চাষে রসুন আবাদ শুরু হয়। ওই সময় জেলার চাটমোহরের বিল এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতিতে রসুন আবাদ করা হয়। আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় গত বছর এ পদ্ধতিতে পণ্যটি আবাদের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ফলে চলতি বছর ব্যাপকহারে বিনা চাষে রসুন আবাদ শুরু হয়েছে।
চাটমোহর এলাকার রসুন চাষী আবেদ আলী জানান, বিনা চাষে রসুন আবাদে খরচ অর্ধেক কমেছে, সময়ও লাগে কম। এ পদ্ধতিতে যে রসুনের ফলন পাওয়া যায়, তা চাষকৃত আবাদের সমপরিমাণ।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার প্রামাণিক জানান, এ পদ্ধতিতে রসুন আবাদে জমি চাষ দিতে হয় না। বিল এলাকায় বর্ষার পানি নেমে গেলে আমন ধান কেটে ধান গাছের গোড়া (নারা) সরিয়ে জমিতে বীজ রোপণ করতে হয়।
অনেকেই বীজ ছিটিয়েও আবাদ করেন। বীজ রোপণ বা ছিটিয়ে বপন করে ধানের নারা দিয়ে জমিটি পুনরায় ঢেকে দিতে হয়। এ সময় জমির জো বেশি কিছুদিন থাকার কারণে সেচের প্রয়োজন হয় না। এক সপ্তাহের মধ্যে নারার ভেতর দিয়ে গাছ বের হয়।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত না হলেও স্থানীয়ভাবে ৭৬৫০ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এর বিপরীতে ৫০১০৮ টন রসুনের ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে মোতাবেক চাষীরা এরই মধ্যে রসুনের আবাদ শুরু করেছেন।
জেলার চাটমোহর, সাঁথিয়া বেড়া ও সুজানগরের বিল এলাকায় মূলত বিনা চাষে রসুন আবাদ ভালো হয়। এতে কৃষকরা দ্বিগুণ লাভ করতে পারেন।
২০১৪ সালে শুধু চাটমোহর উপজেলায় এ পদ্ধতিতে ২২০৭ হেক্টর জমিতে পণ্যটির আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমের এ পর্যন্ত বিনা চাষে ১১৭০ হেক্টর জমিতে এবং চাষ পদ্ধতিতে ১১৫০ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ হয়েছে।
বিনা চাষে রসুন আবাদে বিঘাপ্রতি কৃষকদের প্রায় ২০০০০ টাকা ব্যয় হয়। আর একই পরিমাণ জমিতে ফলন পাওয়া যায় ২৫-৩০ মণ। বর্তমান বাজারদর হিসাবে এক বিঘা জমির রসুন কৃষকরা ৫৫০০০ থেকে ৬০০০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।